মাশহাদে চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ খামেনি, বাবার শেষকৃত্যে অনুপস্থিত মোজতবা খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে বৃহস্পতিবার তার জন্মস্থান ও দেশটির পবিত্র নগরী মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইরান ও ইরাকে অনুষ্ঠিত এক সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষকৃত্য কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটেছে।
তবে পুরো রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠান, এমনকি দাফনেও অনুপস্থিত ছিলেন খামেনির ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই অনুষ্ঠানগুলো সম্পন্ন হলেও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি নিজেকে জনসাধারণের নজরের বাইরে রেখেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহবাহী কফিন প্রথমে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হয়। পরে তা ইরানের মাশহাদে ফিরিয়ে আনা হলে সেখানে হাজারো শোকাহত মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রায় ৩৭ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দেশটির রাজনৈতিক, সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তাঁর এই রাষ্ট্রীয় জানাজাকে একাধারে জাতীয় শোকের বহিঃপ্রকাশ এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতার ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দৃঢ়তার একটি বড় প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মতামত দিন