ঘুম ভাঙার পরই এই ৫ ভুল করছেন না তো?
সকালে চোখ খোলার প্রথম কয়েক মিনিটই ঠিক করে দেয় সারাদিন কেমন যাবে, মেজাজ ফুরফুরে থাকবে নাকি সারাদিন গা-ছাড়া লাগবে। কিন্তু না বুঝেই আমরা এমন কিছু কাজ করে ফেলি, যা শরীরকে জেগে ওঠার সুযোগই দেয় না। চলুন দেখে নিই, ঘুম ভাঙার পরপরই কোন কাজগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।
চোখ খুলেই মোবাইল হাতে নেবেন না
ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল হাতে নিয়ে ফেসবুক, মেসেজ বা মেইল ঘাঁটা, এ যেন এখন প্রায় সবার অভ্যাস। কিন্তু চোখ খোলার আগেই যদি মাথায় হাজারটা নোটিফিকেশন আর দুশ্চিন্তার খবর ঢুকে পড়ে, তাহলে মনটা শুরুতেই অস্থির হয়ে যায়। তাই কিছুক্ষণ ফোন থেকে দূরে থেকে দিনটা নিজের মতো করে শুরু করুন।
তড়াক করে বিছানা ছেড়ে উঠবেন না
সারারাত এক ভঙ্গিতে শুয়ে থাকার পর হুট করে লাফ দিয়ে উঠলে মাথা ঘুরতে পারে, শরীরও ভারসাম্য হারাতে পারে। তাই আগে বিছানায় একটু বসুন, হাত-পা নাড়ান, একটু আড়মোড়া ভাঙুন, তারপর ধীরেসুস্থে উঠে দাঁড়ান।
খালি পেটে সোজা চা-কফিতে হাত দেবেন না
সকালের চা বা কফি ছাড়া অনেকের দিনই শুরু হয় না। কিন্তু খালি পেটে সঙ্গে সঙ্গে ক্যাফেইন পেটে পড়লে অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালার সমস্যা বাড়তে পারে। তাই আগে এক গ্লাস পানি খান, চা-কফি তোলা থাকুক নাশতার সময়ের জন্য।
পানি না খেয়ে থাকবেন না
সারারাত কোনো পানীয় না খাওয়ার কারণে শরীরে হালকা পানিশূন্যতা তৈরি হয়ে থাকে। তাই ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস স্বাভাবিক বা হালকা গরম পানি খেয়ে নিন, শরীর চাঙা লাগবে। তবে জোর করে ঢকঢক করে অনেকটা খাওয়ার দরকার নেই, শরীরের চাহিদা বুঝেই খান।
ঘর অন্ধকার করে বসে থাকবেন না
জানালার পর্দা টেনে দিয়ে ঘর অন্ধকার রাখলে মস্তিষ্ক জাগার সংকেতই পায় না। তাই ঘুম ভাঙলেই জানালা খুলে সকালের আলো ঘরে ঢুকতে দিন। সম্ভব হলে কিছুক্ষণ বারান্দায় বা বাইরে হেঁটে আসুন, দেখবেন মন-মেজাজ চনমনে হয়ে উঠবে।
তাহলে সকালটা শুরু করবেন কীভাবে?
ঘুম ভাঙলে প্রথমে একটু চুপচাপ বসুন, তারপর পানি খান, জানালা খুলুন। হালকা স্ট্রেচিং, একটু হাঁটাহাঁটি বা কয়েকটা লম্বা শ্বাস নিলেই শরীর-মন ধীরে ধীরে জেগে উঠবে। তাড়াহুড়ো না করে শরীরকে একটু সময় দিন—দেখবেন সারাদিনটাই কেটে যাবে গোছানো আর ফুরফুরে মেজাজে।
মতামত দিন