Views Bangladesh Logo

অটোমেশন বাস্তবায়ন করদাতাদের দুর্ভোগ কমাবে: ডিসিসিআই

কর প্রদানে অটোমেশন বাস্তবায়ন দেশের করদাতাদের আয়কর রিটার্নের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ কমাবে এবং এ ডিজিটাল প্রক্রিয়া সামগ্রিকভাবে কর আহরণ বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার।

সোমবার (২০ নভেম্বর) ঢাকা চেম্বার আয়োজিত 'ব্যক্তিগত আয়কর ও রিটার্ন দাখিল' শীর্ষক কর্মশালায় ডিসিসিআই সভাপতি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, নতুন আয়কর আইন-২০২৩-এ করদাতাদের জন্য বেশকিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মধ্যে পূর্বে রিটার্ন দাখিলে ২৯টি ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার বিধান ছিল। বর্তমানে তা ১২টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়াও ক্ষতি সমন্বয় সংক্রান্ত আইনি বিধান সহজ করা, আয়কর নিজে মূল্যায়নসহ আয়করদাতাদের উদ্দেশ্যে আরও অনেক সুবিধাজনক বিধান নতুন আইনে যুক্ত করা হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

সামীর সাত্তার জানান, আয়কর জমার আগে সব করদাতার নতুন আয়কর আইন বিষয়ে অবগত হওয়া উচিত এবং এই কর্মশালার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা উল্লেখিত আইনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবগত হবেন, যা তাদের নিয়মানুযায়ী ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

কর্মশালায় ঢাকা চেম্বারের কাস্টমস, ভ্যাট, আয়কর ও এনবিআর বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির উপদেষ্টা স্নেহাশিস বড়ুয়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি নতুন আয়কর আইন ২০২৩-এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি আয়কর হিসাব এবং রিটার্ন দাখিল বিষয়ে ধারণা দেন।

এ ছাড়াও অতিরিক্ত কর্তনকৃত কর ফেরত, মূলধনী আয়, শেয়ার ভিত্তিক পেমেন্ট, কর অব্যাহতি, ব্যবসা হতে আয়, ভাড়া হতে আয়, আর্থিক পরিসম্পদ হতে আয়, সময়সীমা পার হওয়ার পর রিটার্ন দাখিল বিষয়েও আলোচনা করেন স্ট্যান্ডিং কমিটির এই উপদেষ্টা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়াকে সহজ এবং দুর্ভোগহীন করাই নতুন আয়কর আইনের উদ্দেশ্য। তবে সকল করদাতাকে নতুন এই আইনের বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ডিজিটাল অটোমেশন বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর বিভাগ করদাতা এবং গ্রহীতাদের মধ্যে একটি আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

কর্মশালায় আইসিএবি’র সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য করের পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকেও করের আওতায় আনার জন্য এনবিআরের প্রতি সুপারিশ করেন। এ ছাড়াও যুক্তিসঙ্গত কর হার এবং সহজতর আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া মানুষকে কর প্রদানে আরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বি. এন. দুলাল বলেন, কয়েক বছর আগেও আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে গেলে একজন করদাতাকে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো বর্তমানে তা অনেকটাই লাঘব হবে। তা সত্ত্বেও রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে সঠিক দিক-নির্দেশনার অভাবে এখনও করদাতাদের কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ বিষয়ে বছরজুড়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করলে করদাতারা আরও সহজে কর দিতে পারবেন।

কর্মশালায় ঢাকা চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম গোলাম ফারুক আলমগীর (আরমান), সহ-সভাপতি জুনায়েদ ইবনে আলী এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ