এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যেন মৃত্যুফাঁদ
দুর্ঘটনার দায় কর্তৃপক্ষকেও নিতে হবে
রাজধানীতে নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন ওঠার প্রধান কারণ হচ্ছে, এ প্রকল্পে যথাযথ সুরক্ষা ও নিরাপত্তা না থাকায় ইতোমধ্যে দুজন নির্মাণশ্রমিক ও এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। বারবার এমন ঘটনা ঘটার ফলে বিশেষাজ্ঞরা বলছেন, এটা কর্তৃপক্ষের বিশৃঙ্খলা, অবহেলা ও গাফিলতির চূড়ান্ত প্রদর্শন ছাড়া অন্য কিছু নয়।
নির্মাণকাজে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। কাজ শুরুর আগে এবং কাজ চলাকালে; কিন্তু এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে যথাযথ সুরক্ষা ও নিরাপত্তা না থাকায় গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) কনটেইনার পড়ে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে পরপর দুদিন এক্সপ্রেসওয়ের সরঞ্জাম পড়ে প্রাণ গেল দুজনের। এর আগে গত বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মগবাজারের দিলু রোডে পানির পাম্প এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ে থেকে লোহার মই পড়ে মতিউর রহমান নামে এক পথচারীর মৃত্যু হয়।
গত বছরের ২৯ মে বনানীতে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে রড পড়ে মারা যায় আরও এক শিশু। সাম্প্রতিক ঘটনার আগে ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট উত্তরার জসীমউদদীন রোডে নির্মাণাধীন বিআরটির ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। তাই দেশজুড়ে দাবি উঠেছে, যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়ে নির্মাণকাজ চালানো ও ভুক্তভোগীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার।
আমরা অতীতে দেখেছি, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে ওই প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়; কিন্তু এ দায় শুধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায় না, একই সঙ্গে এ দায় বর্তায় প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ওপর। তা ছাড়া এ ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে এবং দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। গঠন করা হয় বড় বড় তদন্ত কমিটি। দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়; কিন্তু মামলায় গতি আসে না এবং দায়ীদের যথাযথ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না। কেউ কোনো দায়দায়িত্ব স্বীকার করে না। যা দেশের জন্য অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়।
তাই আমরা মনে করি, বারবার এভাবে মানুষ মারার ঘটনাকে কোনো অর্থেই দুর্ঘটনা বলার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে সড়কে মানুষের নিরাপদ ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিতকরণে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। দেশের ব্যস্ততম সড়কে জননিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে নির্মাণকাজ চালানো এবং এ ধরনের দুর্ঘটনার দায়ভার কোনোভাবেই কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না!
প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সে ক্ষেত্রে বড় কোনো নির্মাণকাজ করার সময় জননিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখা হবে, এমনটা আশা করাই স্বাভাবিক। তাই এ ধরনের প্রকল্পে যারা দায়িত্বে থাকেন, তাদের আইনের মুখোমুখি করে দায়বদ্ধ করতে না পারলে এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থাসহ বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা না নেয়া হলে দুর্ঘটনা বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে