Views Bangladesh Logo

অস্ট্রিয়ায় রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ, বাড়ছে খরা ও দাবানলের শঙ্কা

তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়া। চলতি গ্রীষ্মে দেশটিতে একের পর এক তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙছে। জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ৪০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির জুলাই মাসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

অস্ট্রিয়ার উইইজেলবার্গ শহরে রেকর্ড করা এই তাপমাত্রা শুধু জুলাই মাসের আগের সব রেকর্ডই ভাঙেনি, বরং ১৯৮৩ সালের ২৭ জুলাই কারিনথিয়া রাজ্যে নিবন্ধিত ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের জাতীয় জুলাই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে লোয়ার অস্ট্রিয়া ও আপার অস্ট্রিয়া অঞ্চলে তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, চলমান তাপপ্রবাহের তীব্রতা ২০১৩ সালের ভয়াবহ দাবদাহকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে দেশটিতে এ গ্রীষ্ম মৌসুমের দ্বিতীয় বড় তাপপ্রবাহ চলছে, যা জনজীবনের পাশাপাশি কৃষি ও পরিবেশে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমের দুই দফা তাপপ্রবাহে অস্ট্রিয়ার অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরোর ক্ষতি হয়েছে। কৃষি উৎপাদন, অবকাঠামো এবং বিভিন্ন খাতে এই ক্ষতির প্রভাব পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে অস্ট্রিয়ার জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা আরও সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, উষ্ণ ট্রপিক্যাল বায়ুপ্রবাহ এবং দক্ষিণ পশ্চিম ইউরোপ থেকে বিস্তৃত উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে সোমবার (৩ আগস্ট) থেকে দেশজুড়ে নতুন করে অন্তত এক সপ্তাহ তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

গ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, অস্ট্রিয়ায় চলমান এই চরম আবহাওয়ার প্রায় ৮০ শতাংশই মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, তাপমাত্রা আরও বাড়লে খরা, বনাঞ্চলে দাবানল, পানির সংকট এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ