আক্রমণের ঝড় তুলেও ব্যর্থ তুরস্ক, ২-০ গোলে বিজয়ী অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সহজ জয়ই ছিল অনেকের প্রত্যাশা, কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। পুরো ম্যাচে আধিপত্য ছিল তুরস্কের হাতেই, তবুও গোলের দেখা তারা পায়নি। রক্ষণে দৃঢ়তা আর কাউন্টার অ্যাটাকের নিখুঁত ব্যবহার করে তুরস্কের সব আক্রমণ ভেস্তে দিয়ে দারুণ এক জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০ ঘটিকায় ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে সকারুজরা। ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখালেও ব্যার্থ হয় তুরস্ক, আর সুযোগের সদ্ব্যবহার করে জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
বিশ্বকাপের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই সতর্ক ছিল দুই দলই। প্রথম কয়েক মিনিটে মাঝমাঠে বল দখলের লড়াই চললেও ধীরে ধীরে আক্রমণে গতি বাড়ায় তুরস্ক। তবে ম্যাচের ২৭তম মিনিটে হঠাৎ করেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণ ফরোয়ার্ড নেস্তরি ইরানকুন্ডা। মাত্র ২০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড নিজের বিশ্বকাপ অভিষেকেই গোল করে নজর কাড়েন ফুটবলবিশ্বের।
গোল হজম করার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে তুরস্ক। বল দখলে প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে তারা একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে। প্রথমার্ধেই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় গোলের দেখা পায়নি তুর্কিরা। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় তারা।
পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে প্রায় ৬২ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রাখে তুরস্ক। তারা মোট ২৬টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ৮টি শট নিয়ে ৪টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। পাসিং দক্ষতায়ও তুরস্ক ছিল দাপুটে; ৬১৬টি পাস এবং ৯১ শতাংশ পাস অ্যাকুরেসি নিয়ে তারা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে ফুটবল যে শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়, সেটিই আবারও প্রমাণ করল অস্ট্রেলিয়া। রক্ষণে শৃঙ্খলা, গোলরক্ষকের অসাধারণ সেভ এবং নিখুঁত কাউন্টার অ্যাটাকে ভর করে এগিয়ে যায় তারা।
ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে আসে দ্বিতীয় ও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া গোলটি। তুরস্ক যখন সমতায় ফেরার জন্য আক্রমণে সব শক্তি ঢেলে দেয়, ঠিক তখনই আরেকটি দ্রুত প্রতিআক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনর মেটকাফে। বক্সের ভেতর থেকে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। এই গোলের পরই ম্যাচ কার্যত হাতছাড়া হয়ে যায় তুরস্কের।
শেষের দিকে অবশ্য একটি সুযোগ পায় তুরস্ক। তরুণ তারকা আর্দা গুলের একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক নেন, যা মনে হচ্ছিল গোল হবেই। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক অসাধারণ ড্রাইভে সেই শট ফিরিয়ে দেন। ফিরতি বলেও আর সুবিধা করতে পারেনি তুরস্কের ফরোয়ার্ডরা, দ্রুত ক্লিয়ার করে বিপদ সামাল দেয় অজি ডিফেন্ডাররা। শেষ পর্যন্ত ২৬টি শট হজম করেও রক্ষণে দৃঢ়তা দেখিয়ে ক্লিনশিট ধরে রাখে অস্ট্রেলিয়া। আর সেই সঙ্গে ২-০ গোলের দারুণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
এই জয়ের ফলে ডি গ্রুপে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে যাত্রা শুরু করল অস্ট্রেলিয়া, অন্যদিকে এত আধিপত্য দেখিয়েও হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তুরস্ককে। ভ্যাঙ্কুভারের এই রাত তাই মনে রাখার মতো এক ফুটবল নাটক হয়ে থাকল, যেখানে জিতেছে কার্যকারিতা আর কাউন্টার অ্যাটাক ফুটবল।

মতামত দিন