ইতিহাসের হাতছানি নিয়ে মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-মিসর
বিশ্বকাপের রাউন্ড ৩২-এর লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও মিসর। আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টায় শুরু হবে ম্যাচটি। জয়ী দল শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের বিজয়ীর।
দুই দলই শেষ ৩২-এ উঠেছে নিজ নিজ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে। গ্রুপ পর্বে তুরস্ককে হারানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হার ও প্যারাগুয়ের সঙ্গে ড্র করেছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে মিসর গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে অপরাজিত থেকে।
এর আগে দুবার দেখা হয়েছে দল দুটির। ১৯৮৭ সালে কোরিয়া কাপে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল, আর ২০১০ সালের প্রীতি ম্যাচে ঘরের মাঠে ৩-০ গোলে জিতেছিল মিসর।
অস্ট্রেলিয়ার মূল শক্তি তাদের রক্ষণের সংগঠন। হ্যারি সাউটারের নেতৃত্বে তিন সেন্টারব্যাকের রক্ষণভাগে রয়েছে উচ্চতা, শক্তি আর হেডে দক্ষতার দারুণ সমন্বয়। মাঝমাঠে লড়াকু শক্তি জোগান জ্যাকসন আরভিন ও এইডেন ও’নিল, আর আক্রমণে দলটির মূল ভরসা নেস্টরি ইরানকুন্ডা, ক্রিস্টিয়ান ভলপাতো ও কনর মেটকাফ। কোচ টনি পপোভিচের লক্ষ্য বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের প্রথম জয়।
মিসরের গল্পটা ভিন্ন। কোচ হোসসাম হাসানের দল ‘জি’ গ্রুপে অপরাজিত থেকেছে—বেলজিয়াম ও ইরানের সঙ্গে ড্রয়ের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেয়েছে নিজেদের প্রথম জয়। আর ১৯৩৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলছে ফারাওরা; গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে ওঠার অভিজ্ঞতাও তাদের এবারই প্রথম।
ম্যাচে সবার নজর থাকবে মোহামেদ সালাহর দিকে। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা গ্রুপ পর্বে করেছেন এক গোল, সঙ্গে দুটি অ্যাসিস্ট। তবে ইরানের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান তিনি। দলের সঙ্গে অনুশীলন করলেও শুরুর একাদশে তাঁর থাকা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। সালাহ শুরু থেকে খেললে অস্ট্রেলিয়ার জমাট রক্ষণ (লো ব্লক) ভাঙার সম্ভাবনা বাড়বে মিসরের। আর বদলি হিসেবে নামলে ওমর মারমুশের গতি থাকলেও আক্রমণের শেষ ধাপে সেই ধার হারাতে পারে দলটি।
কৌশলের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া সম্ভবত জোনাল ডিফেন্সে খেলবে—সেন্টারব্যাক ও ফুলব্যাকদের মধ্যে জায়গা কমিয়ে এনে লং বল, সেকেন্ড বল আর সেট-পিস কাজে লাগাতে চাইবে তারা। মিসরের দখলে বল বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণের বিপক্ষে সংকীর্ণ জায়গায় শারীরিক লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়া এড়াতে হবে তাদের।
ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যকার ট্রানজিশন। ছোট জায়গায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন মিসরের মারমুশ ও সালাহ; অন্যদিকে দ্রুত বল সামনে নেওয়ার কাজে অস্ট্রেলিয়ার ভরসা ইরানকুন্ডা, ভলপাতো ও মেটকাফ।
মতামত দিন