Views Bangladesh Logo

গ্রুপ-‘সি’

বিশ্বকে চমকে দিতে প্রস্তুত ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’ মরক্কো

আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’ নামে খ্যাত মরক্কো আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের লক্ষ্যে মাঠে নামছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, সংগঠিত দলগত খেলা এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলে বিশেষ নজর কাড়ে উত্তর আফ্রিকার দলটি। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া এই দলটি কৌশলগত দিক থেকে বেশ পরিণত, যা তাদের বড় দলগুলোর জন্যও কঠিন প্রতিপক্ষ করে তুলেছে। মরক্কো সাধারণত ৪-১-৪-১ বা ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। রক্ষণভাগে দৃঢ়তা বজায় রেখে মাঝমাঠ থেকে দ্রুত আক্রমণে ওঠাই তাদের মূল কৌশল। উইং দিয়ে গতি ব্যবহার এবং কাউন্টার অ্যাটাকে কার্যকর ফিনিশিং তাদের খেলাকে আলাদা মাত্রা দেয়।

বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
মরক্কো একাধিকবার বিশ্কাপের অংশ নিয়ে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করেছে গর্বের সঙ্গে। ১৯৭০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেললেও তাদের বড় সাফল্য আসে ১৯৮৬ সালে, যখন তারা প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে ওঠার ইতিহাস গড়ে। দীর্ঘ সময় মাঝারি মানের পারফরম্যান্সের পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা নতুনভাবে শক্তি সঞ্চয় করে। বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপে তারা ইতিহাস সৃষ্টি করে সেমিফাইনালে উঠে। যা কোনো আফ্রিকান দলের জন্যই প্রথম। সেই আসরে তারা গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়া ও বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলকে টপকে শীর্ষে উঠে, পরে নকআউট পর্বে স্পেনকে টাইব্রেকারে এবং পর্তুগালকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয়। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের কাছে সেমিফাইনালে হেরে যায়। এই ধারাবাহিক উন্নতির ফলে বিশ্ব ফুটবলে মরক্কোর অবস্থান এখন দৃঢ় ও সম্মানজনক, এবং তারা আর কোনোভাবেই অবমূল্যায়নযোগ্য দল নয়।

শক্তিমত্তা
সর্বশেষ ফিফা প্রকাশিত র‍্যাংকিং (১ এপ্রিল ২০২৬) অনুযায়ী মরক্কোর বর্তমান অবস্থান ৮ম এবং আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে প্রথম। মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগের সংগঠন। ডিফেন্সের খেলোয়াড়রা অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে খেলেন এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে দক্ষ। মাঝমাঠে তারা বল দখল ও প্রতিপক্ষের খেলা ভাঙতে সক্ষম। দ্রুতগতির উইঙ্গার এবং ফরোয়ার্ডদের মাধ্যমে তারা হঠাৎ করেই পাল্টা আক্রমণে উঠে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারে। দলগত বোঝাপড়া ও পরিশ্রমী মানসিকতা তাদের আলাদা করে তোলে।

দুর্বলতা
তবে মরক্কোর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অনেক সময় তারা আক্রমণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে না এবং গোল করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে। শক্তিশালী আক্রমণভাগের দলের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় রক্ষণ সামলাতে গিয়ে চাপে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে ঘাটতি দেখা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
বর্তমান মরক্কো দলে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রয়েছে যারা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। আক্রমণভাগে হাকিম জিয়েচ বর্তমানে তুরস্কের গালাতাসারায় ক্লাবে খেলেন। তার সৃজনশীল পাস ও দূরপাল্লার শট দলকে আক্রমণে এগিয়ে রাখে। মাঝমাঠে সোফিয়ান আমরাবাত ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-এ (ধার/লোনে) খেলেছেন, যেখানে তিনি দলের ভারসাম্য ও রক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ডিফেন্সে আশরাফ হাকিমি ফ্রান্সের শীর্ষ ক্লাব প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন (পিএসজি)-এর হয়ে খেলেন। তার গতি ও আক্রমণাত্মক রান তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুলব্যাক হিসেবে আলাদা করে। গোলপোস্টে ইয়াসিন বোনো বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল-এ খেলেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার সেভ দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখতে পারে।

গ্রুপ প্রতিপক্ষ
সি গ্রুপে মরক্কোর প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড এবং হাইতি। ব্রাজিল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল হওয়ায় তাদের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই হবে শারীরিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। অন্যদিকে হাইতির বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকলেও কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
মরক্কোর লক্ষ্য হবে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া। যদি তারা তাদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা বজায় রাখতে পারে এবং পাল্টা আক্রমণে কার্যকারিতা দেখাতে পারে, তবে বড় ধরনের অঘটন ঘটানোর সামর্থ্য তাদের রয়েছে। শৃঙ্খলা, কৌশল এবং আত্মবিশ্বাসের সমন্বয়ে মরক্কো এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে প্রস্তুত।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ