চীনের উত্তরাঞ্চলে কয়লা খনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত ৯০ জন
চীনের উত্তরাঞ্চলে একটি কয়লা খনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছেন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ মড) শানঝি প্রদেশের লিউশেনইউ কয়লা খনিতে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে শত শত উদ্ধারকর্মী পাঠানো হয়েছে। খবর বিবিসির
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের ফুটেজে দেখা গেছে, প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে স্ট্রেচার বহন করছেন এবং পেছনে অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে আছে। ১০০ জনেরও বেশি মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে এবং ঘটনাস্থলে এখনও উদ্ধার কাজ চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় ১৯ টা ২৯ মিনিটে (১১টা২৯ জিএমটি) শানঝির একটি কয়লা খনিতে এই বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে ২৪৭ জন শ্রমিক দায়িত্বরত ছিলেন বলে জানা গেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আহতদের চিকিৎসা এবং বেচে থাকাদের সন্ধানে কোনো রকম দুর্বলতা না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সরকারকে এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, কয়লা খনি পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের আটক করা হয়েছে। গ্যাস বিস্ফোরণের কারণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, খনিতে কার্বন মনোক্সাইড একটি অত্যন্ত বিষাক্ত, গন্ধহীন গ্যাসের মাত্রা ‘সীমা অতিক্রম’ করেছিল। চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য ছয়টি উদ্ধারকারী দল থেকে ৩৪৫ জন কর্মী পাঠিয়েছে।
চীনের অন্যতম দরিদ্র প্রদেশ শানঝি, দেশটির কয়লা খনির রাজধানী হিসেবে পরিচিত। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে চীনের কয়লা খনি শিল্পে মারাত্মক দুর্ঘটনা সাধারণ বিষয় ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তার মানদণ্ড কঠোর করা হলেও এখনও দুর্ঘটনা ঘটছে।
২০২৩ সালে উত্তরাঞ্চলীয় ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের একটি উন্মুক্ত কয়লা খনি ধসে ৫৩ জন নিহত হন। এর আগে, ২০০৯ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশের একটি খনিতে বিস্ফোরণে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
চীন বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা ব্যবহারকারী এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ, যদিও তারা রেকর্ড গতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে