যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ তুষারঝড়ে প্রাণ গেল অন্তত ২৯ জনের
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ শীতকালীন তুষারঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল তুষারপাত ও হিমশীতল আবহাওয়ার কারণে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে, আর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে গেছে।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, এই তুষারঝড়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
টেক্সাসের ডালাসের কাছে ফ্রিসকো শহরে স্লেজিং করতে গিয়ে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। ফ্রিসকো পুলিশের বরাতে জানা গেছে, একটি গাড়ির মাধ্যমে স্লেজে করে দুই কিশোরীকে টানা হচ্ছিল। হঠাৎ স্লেজটি রাস্তার কার্বে ধাক্কা খেয়ে একটি গাছের সঙ্গে সংঘর্ষে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
অস্টিন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত পেট্রোল পাম্পের পার্কিং লট থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, তীব্র ঠান্ডায় জমে যাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
আর্কানসাসের সালাইন কাউন্টিতে তুষারের ওপর এটিভি দিয়ে টানা অবস্থায় গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে শেরিফ দপ্তর।
পেনসিলভানিয়ার লিহাই কাউন্টিতে বরফ পরিষ্কার করার সময় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। কাউন্টির করোনার জানান, নিহতদের বয়স ৬০ থেকে ৮৪ বছরের মধ্যে। তিনি বিশেষ করে হৃদরোগসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের বরফ সরানোর সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
নিউইয়র্ক সিটিতে এই ঝড়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। শহরের মেয়র জোহরান মামদানি জানান, লং আইল্যান্ডে বরফ পরিষ্কার করতে গিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। নিউইয়র্কের এবিসি চ্যানেল ডব্লিউএবিসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিউ জার্সির ভেরোনা এলাকায় এক ব্যক্তিকে হাতে বেলচা ধরা অবস্থায় মৃত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। ম্যাসাচুসেটসে একটি পার্কিং লটে স্নোপ্লাউ পেছনে নেওয়ার সময় চাপা পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া টেনেসিতে চারজন, লুইজিয়ানায় তিনজন, মিসিসিপিতে দুজন, কানসাসে একজন, ওহাইওতে একজন এবং সাউথ ক্যারোলিনায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
তুষারঝড়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে সোমবার পাঁচ হাজার একশর বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানায়, ডালাস, বোস্টন ও নিউইয়র্ক সিটি থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত ঝড়ের কারণে মোট ২০ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। শুধু রোববারই ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়, যা করোনাভাইরাস মহামারির পর একদিনে সর্বোচ্চ বাতিলের রেকর্ড বলে জানিয়েছে বিমান বিশ্লেষণা সংস্থা সিরিয়াম।
সোমবার পর্যন্ত ছয় লাখ ৫০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে টেনেসি, মিসিসিপি, লুইজিয়ানা ও টেক্সাস।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে