২০২৬ সালে মহাকাশে মহাজাগতিক বিস্ময়, সাক্ষী হবে বাংলাদেশও
নতুন বছর ২০২৬ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বছরের শুরুতেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন রোমাঞ্চকর এক সুখবর—এই বছরজুড়ে মহাকাশে ঘটতে যাচ্ছে একের পর এক বিরল ও বিস্ময়কর ঘটনা। সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ, গ্রহের বিরল অবস্থান, উল্কা বৃষ্টি—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালকে বলা হচ্ছে মহাজাগতিক বিস্ময়ের এক অনন্য বছর।
বিশেষ করে আকাশপ্রেমী বাংলাদেশিদের জন্য বছরটি আরও আনন্দের। কারণ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাজাগতিক দৃশ্য দেশের আকাশ থেকেই সরাসরি দেখার সুযোগ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন সাময়িকীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের উল্লেখযোগ্য মহাজাগতিক ঘটনাগুলো তুলে ধরা হলো—
জানুয়ারিতে বৃহস্পতির বিরল উজ্জ্বলতা
বছরের শুরুতেই জানুয়ারির প্রথমার্ধে বৃহস্পতি গ্রহের ‘অপোজিশন’ ঘটেছে। এ সময় গ্রহটি সূর্যের ঠিক বিপরীতে এবং পৃথিবীর তুলনামূলক কাছাকাছি অবস্থানে ছিল। ফলে বছরের সবচেয়ে উজ্জ্বল রূপে বৃহস্পতিকে দেখা গেছে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই গ্রহটি দেখা সম্ভব হয়েছে, আর ছোট টেলিস্কোপে তার চারটি উপগ্রহও ধরা পড়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে ‘রিং অফ ফায়ার’
১৭ ফেব্রুয়ারি ঘটে গেছে বলয় সূর্যগ্রহণ, যা ‘রিং অফ ফায়ার’ নামে পরিচিত। চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে না পারায় সূর্যের চারপাশে আগুনের মতো উজ্জ্বল একটি বলয় দেখা গেছে। যদিও এই বিরল দৃশ্য মূলত অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চল থেকে স্পষ্ট দেখা গেছে, বাংলাদেশ থেকে তা দৃশ্যমান ছিল না।
মার্চে দেখা যাবে ‘ব্লাডমুন’
আগামী ৩ মার্চ রাতে ঘটতে যাচ্ছে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। এ সময় পৃথিবীর ছায়া পুরোপুরি চাঁদকে ঢেকে ফেলবে এবং চাঁদ লালচে রঙ ধারণ করবে—যাকে বলা হয় ‘ব্লাডমুন’। এশিয়া, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশ থেকেও এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।
আগস্টে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ও উল্কা বৃষ্টি
১২ আগস্ট ঘটবে বছরের সবচেয়ে বড় মহাজাগতিক ঘটনা—পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। স্পেন, আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডে কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আকাশ অন্ধকার হয়ে যাবে। বাংলাদেশ থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে না।
তবে একই সময়ে, ১২ ও ১৩ আগস্ট রাতে দেখা যাবে জনপ্রিয় ‘পার্সিয়েটস উল্কা বৃষ্টি’। অন্ধকার আকাশে প্রতি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৭০টি উল্কার ঝলকানি দেখা যেতে পারে, যা বাংলাদেশ থেকেও উপভোগ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বছরের শেষে রঙিন উল্কার ছটা
আগস্টের ২৮ তারিখে একটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ বাংলাদেশ থেকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া বছরের শেষভাগে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ঘটবে ‘জেমিনিড উল্কা বৃষ্টি’। এটি বছরের সবচেয়ে সুন্দর ও রঙিন উল্কা বৃষ্টিগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। পরিষ্কার আকাশে সাধারণ দর্শকরাও খালি চোখেই এই দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে আকাশ ও মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এক স্মরণীয় বছর—যেখানে চোখ মেললেই ধরা দেবে মহাবিশ্বের নানা বিস্ময়।
লেখক: সামিউল ইবনে হোসেন, প্রদায়ক
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে