সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষর জালিয়াতি: সাময়িক বহিষ্কৃত এএসপি শাহাবুদ্দীন কারাগারে
সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নথি তৈরির মামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাময়িক বহিষ্কৃত) শাহাবুদ্দীন আহমদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন শাহাবুদ্দীন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানির অনুমোদন দেওয়ার কথা বলে একটি চক্র ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন রবিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নামে আবেদন এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুপারিশযুক্ত একটি মঞ্জুরিপত্র তৈরি করা হয়। ওই নথিতে পাঁচ লাখ গবাদিপশু আমদানির অনুমোদনের কথা উল্লেখ ছিল।
পরে আলাউদ্দিন রবিন ঢাকায় এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, এ ধরনের কোনো আবেদন বা অনুমোদনের নথি মন্ত্রণালয়ে নেই। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর পল্লবী থানায় মামলা করা হয়। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্ত শেষে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চে শাহাবুদ্দীন আহমদের ব্যবহৃত একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে বিভিন্ন আবেদন ও নথির কপি জাফর ইকবাল ওরফে রাঙ্গার কাছে পাঠানো হয়। পরে সেগুলো অন্যদের কাছে পাঠানো হয়। তদন্তে ওই নম্বর থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলির সুপারিশসংক্রান্ত কথোপকথনের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, আসামিরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভুয়া অনুমোদনপত্র, আবেদনপত্র ও চুক্তিনামা আদান-প্রদান করতেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষরযুক্ত নথি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিবের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত নথিও জাল করা হয়। তদন্তে এসব স্বাক্ষর প্রকৃত স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল নেই বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন জাফর ইকবাল ওরফে রাঙ্গা, মো. আব্দুল্লাহ জাবেদ, খোরশেদ আলম ও মো. হযরত আলী।
মতামত দিন