এবার পাকিস্থানের পরমাণু অস্ত্রভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিলেন মুনির
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে ঘটে গেছে বড় ধরনের কাঠামোগত রদবদল। দেশটির চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন থেকে সরাসরি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন পরমাণু অস্ত্রভান্ডার। অত্যন্ত বিশ্বস্ত এক কর্মকর্তার হাতে তুলে দিয়েছেন এই অস্ত্র দেখভালের দায়িত্ব। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে গঠিত নতুন ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের (এনএসসি) হাতে ন্যস্ত হয়েছে এই দায়িত্ব, যা এতদিন ছিল বেসামরিক ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটির (এনসিএ) অধীনে।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাক পার্লামেন্টে পাস হওয়া ২৭তম সংবিধান সংশোধনী বিলের মাধ্যমে এই কমান্ড গঠনের বিধান রাখা হয়। পরে তাতে সই করেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। প্রায় আট মাস পর সেই লক্ষ্যে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করল ইসলামাবাদ।
একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরমাণু অস্ত্রসহ পাকিস্তানের যাবতীয় কৌশলগত সম্পত্তির দেখভাল করবে নবগঠিত এই কমান্ড। নতুন আইনের ফলে ক্ষমতা কমেছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের, আণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তেই আর তাঁর কোনো ভূমিকা থাকছে না। আগামী দিনে তিনি কেবল তথ্যমূলক দায়িত্ব পালন করবেন, বাস্তবে সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর মুনিরের নিয়ন্ত্রণ আরও পোক্ত হয়েছে।
নবগঠিত ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আমির রাজা। তিনি সম্প্রতি পাক সেনার ৪১তম চিফ অফ জেনারেল স্টাফ পদ থেকে অবসর নিয়েছেন এবং ছিলেন চতুর্থ কোরের কমান্ডার। এছাড়া তক্ষশিলা হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির রকেট ফোর্সের আদলে এই কমান্ড গঠন করেছে পাকিস্তান; যেখানে পরমাণু অস্ত্রের মজুত দেখভালের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, সরবরাহ ও কৌশলগত অস্ত্র উন্নয়নকে একীভূত করা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো স্থল, জল, বায়ু, রকেট ফোর্স ও পরমাণু অস্ত্রের কমান্ডকে একত্র করে একটি সমন্বিত অপারেশনাল কাঠামো তৈরি করা। সাবেক সেনাকর্তাদের মতে, এর মাধ্যমে মূলত ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে চাইছেন ফিল্ড মার্শাল মুনির।
প্রসঙ্গত, গত বছর জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় পর্যটকসহ ২৬ জনের মৃত্যুর পর ভারত পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকেই দ্রুত ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন মুনির। মাত্র চার দিনের সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় পাকিস্তান, আর এরপরই তাঁকে ফিল্ড মার্শাল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও বাড়িয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে গত সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে সই হওয়া ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মুনির।
সুত্র: আনন্দবাজার
মতামত দিন