Views Bangladesh Logo

পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আলমগীর এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২৩ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এদিন মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। তবে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন বাতিল করেন।

২০২৪ সালের ১৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। গত বছরের ২৬ জানুয়ারি একই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন নাসির উদ্দিন। মামলার এজাহারে বলা হয়, পরীমণি ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে গিয়ে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। এ ছাড়া পরীমণি পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করে হয়রানির ভয় দেখান বলে অভিযোগ করেন বাদী। এজাহার অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে যান এবং দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, পরে আসামিরা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। রাত সোয়া ১টার দিকে বাদী নাসির উদ্দিন ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমণি নাসির উদ্দিনকে ডেকে তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বসার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে পরীমণি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

বাদী এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাকে গালমন্দ করেন বলে এজাহারে বলা হয়। বাদী ও আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমণি তাঁর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথায় ও বুকে আঘাত পান বলে অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া পরীমণি ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ভাঙচুর করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীমণি সাভার থানায় বাদী নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ