২৪ ঘণ্টায় স্পেনের সেউতায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসীর অনুপ্রবেশ, নিহত বেড়ে ৩৪
মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় হাজারো অভিবাসীর নজিরবিহীন অনুপ্রবেশ ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সেউতার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস।
এক সংবাদ সম্মেলনে হুয়ান জেসুস ভিভাস আরও বলেন, সেউতায় অনুপ্রবেশের সময় অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টাকালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।
স্পেনের সরকারি টেলিভিশন টিভিই-র তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার এক দিনেই প্রায় দুই থেকে তিন হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। মরক্কোর সীমান্ত শহর ফনিদেকের বাসিন্দারা জানান, স্পেনে পৌঁছাতে সক্ষম হওয়া অধিকাংশ অভিবাসীই দুপুরের আগেই সীমান্ত অতিক্রম করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, শত শত অভিবাসী সাঁতরে বা ভেসে স্পেনের তারাহাল সমুদ্রসৈকতে পৌঁছান এবং সেখানে পৌঁছানোর পর কৃত্রিম ঢেউপ্রতিরোধক বাঁধ অতিক্রম করে প্রধান সড়কের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। প্রবেশকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ হলেও শিশু ও পরিবারসহ নারীদেরও দেখা গেছে। এ সময় বার্তা সংস্থা এপির একজন আলোকচিত্রীকে দেখে অনেককে ‘স্পেন দীর্ঘজীবী হোক’ বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ‘গার্দিয়া সিভিল’-এর মুখপাত্র জানান, তারাহাল ব্রেকওয়াটার দিয়ে সমুদ্রপথে বহু অভিবাসীর অনুপ্রবেশ ঘটেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন সেউতায় গার্দিয়া সিভিল কর্মকর্তাদের সংগঠনের প্রধান রশিদ স্বিহি।
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা অসম্ভব হলেও হাজার হাজার মানুষ একযোগে ঢুকছে।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার সেউতায় অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে স্পেন সরকার।
উল্লেখ্য, সেউতা এবং এর নিকটবর্তী মেলিয়া হলো আফ্রিকা মহাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একমাত্র স্থল সীমান্ত। ফলে ইউরোপে উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় থাকা হাজারো অভিবাসীর জন্য এই অঞ্চল দুটি প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সূত্র: দ্য আইরিশ টাইমস, বিবিসি
মতামত দিন