Views Bangladesh Logo

মেসির জন্য ডানে, আলভারেজের জন্য বাঁয়ে—পিকফোর্ডের পানির বোতলে ধরা পড়ল ইংল্যান্ডের ‘নীলনকশা’

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

জয়ের উচ্ছ্বাস তখন মাঠজুড়ে। প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে ফাইনালের টিকিট পাকা করে ফেলেছে আর্জেন্টিনা, গ্যালারিতে চলছে গানবাজনা। ঠিক তখনই মাঠের এক কোণে ঘটে গেল অন্যরকম এক দৃশ্য। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ফেলে যাওয়া পানির বোতল হাতে তুলে নেন নিকো গঞ্জালেস। খেয়াল করতেই চোখ কপালে ওঠে তার—বোতলের গায়ে সাঁটা কাগজে একের পর এক আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের নাম!

মুহূর্তেই ব্যাপারটা জানানো হয় লিওনেল মেসিকে। তার সঙ্গে ছুটে আসেন ডিফেন্ডার মার্কোস সেনেসিসহ দলের একজন সহকারী কোচিং স্টাফ। চারজন মিলে তখন গোয়েন্দাগিরিতে ব্যস্ত—আসলে কী লুকিয়ে আছে এই বোতলে?

আসলে ওটা কোনো সাধারণ বোতল ছিল না। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড টাইব্রেকারের জন্য আগেভাগেই বানিয়ে রেখেছিলেন এক ‘গোপন নথি’—ডাকটেপে বোতলের গায়ে সেঁটে দেওয়া একটুকরো কাগজ, যাতে লেখা আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পেনাল্টি-শুটারদের শট নেওয়ার প্রবণতা। কে কোন দিকে শট নেন, কার বিপক্ষে কোন দিকে ঝাঁপাতে হবে—সবকিছুর নিখুঁত ছক। শুধু মেসি, লাওতারো মার্তিনেজ বা হুলিয়ান আলভারেজ নন, এমনকি একাদশের বাইরে থাকা তৃতীয় গোলরক্ষক হেরেনিমো রুলির জন্যও আলাদা নির্দেশনা রেখেছিলেন পিকফোর্ড।

কাগজের ছকে যা লেখা ছিল তা রীতিমতো চমকপ্রদ। মেসির বেলায় নির্দেশ—বাঁ দিকে ভান দেখিয়ে ডান দিকে ঝাঁপ দাও। মন্তিয়েলের ক্ষেত্রে শুধু বাঁ দিকে। পারেদেসের বেলায় একটু বাঁয়ে সরে ডানে ঝাঁপানোর পরামর্শ। এনজো ফার্নান্দেজের নামের পাশে লেখা, গোললাইনেই স্থির দাঁড়িয়ে থাকো। আর ম্যাচে এক মিনিটও না খেলা রুলি যদি কখনো শট নিতে আসেন, তাহলে বাঁ দিকেই ঝাঁপানোর কথা বলা ছিল।

তবে ইংল্যান্ডের বিশ্লেষক দল সবার তথ্য জোগাড় করতে পারেননি। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, হুয়ান মুসো কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজের কোনো পেনাল্টি-রেকর্ড না থাকায় তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তারা। আর সবচেয়ে মজার নোটটা বোধহয় ছিল থিয়াগো আলমাদার নামের পাশে—তার জন্য লেখা, যেদিকে ইচ্ছা সেদিকেই ঝাঁপ দাও।

এই বিশ্বকাপে অবশ্য আর্জেন্টিনা কিংবা ইংল্যান্ড, কোনো দলকেই এখনো টাইব্রেকারের মুখোমুখি হতে হয়নি। তবে টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মোট তিনটি পেনাল্টি পেয়েছে আর্জেন্টিনা, যার একটিতে গোল পেলেও বাকি দুটি মিস করেছেন মেসি নিজেই। সেই পরিসংখ্যান মাথায় রেখেই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে দলীয় বিশ্লেষকের সহায়তায় এই ছক তৈরি করিয়েছিলেন পিকফোর্ড, এবং সেটি নিজের সঙ্গে বোতলে সেঁটে মাঠেও নিয়ে গিয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেই ছকের আর দরকার পড়েনি। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি আর্জেন্টিনা—৮৫ মিনিটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ, আর যোগ করা সময়ে মেসির বাড়ানো বলে জয়সূচক গোলটি করেন লাওতারো মার্তিনেজ। ২-১ ব্যবধানে হেরে টাইব্রেকারে পৌঁছানোর আগেই বিদায় নিতে হয় ইংল্যান্ডকে, ফলে পিকফোর্ডের সেই সতর্ক প্রস্তুতিও থেকে যায় অব্যবহৃত।

তবে ইংল্যান্ডের এই খুঁটিনাটি হোমওয়ার্ক এবার হয়তো কাজে লাগাতে পারে স্পেন। ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠেয় ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ তারাই।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ