ইরান যুদ্ধে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে আরব অর্থনীতি: জাতিসংঘ
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধের প্রভাবে আরব দেশগুলোর অর্থনীতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের ফলে আরব দেশগুলোর অর্থনীতি ৬ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে এবং লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হতে পারেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই সমীক্ষায় গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া চার সপ্তাহের এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে যে সীমিত পর্যায়ের সংঘাতও বাণিজ্য, জ্বালানি ও আর্থিক খাতের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউএনডিপির গবেষণা অনুযায়ী, আরব রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক উৎপাদন ৩ দশমিক ৭ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে, যা মুদ্রার অঙ্কে ১২০ থেকে ১৯৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং পরিবহন খরচ বাড়ায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ধস নামতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারেন। বিশেষ করে লেভান্ত অঞ্চল এবং সুদান ও ইয়েমেনের মতো ভঙ্গুর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কর্মসংস্থান হারাতে পারেন ২৫ থেকে ৩৫ লাখ মানুষ এবং কম দক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি প্রবাহ বিঘ্নিত হওয়ায় আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি প্রকট আকার ধারণ করছে। অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উপসাগরীয় ও লেভান্ত অঞ্চলের দেশগুলো। তবে উচ্চ তেলের দামের কারণে উত্তর আফ্রিকার কিছু তেল রপ্তানিকারক দেশ কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে অনেক দেশের মানব উন্নয়ন সূচক এক বছর পিছিয়ে যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করে। এ পর্যন্ত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইরান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তেহরানের অনুমতি ছাড়া চলাচলের চেষ্টাকালে বেশ কয়েকটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে বিশ্ববাজার ও বিমান চলাচল ব্যবস্থা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে