আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল পানামা
মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় অনুভূত এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) একই ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ১ এবং গভীরতা ১০ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে।
শুক্রবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর নতুন করে এই কম্পন দেশটিতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত ৯ অক্টোবর পানামায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। একই দিনে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পও অনুভূত হয়। এতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সোমবারের ভূমিকম্পের পরপরই নতুন করে প্রাণহানি বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজ অব্যাহত রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে আরও সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পানামার জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের ভূমিকম্পে অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ৯০০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লস সান্তোস, কোকলে, ভেরাগুয়াস ও এরেরা প্রদেশ। এসব এলাকায় বাড়িঘরের পাশাপাশি সেতু, সড়ক ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। ভেরাগুয়াস ও লস সান্তোস প্রদেশে অন্তত ১৪টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে শুক্রবারের বড় ভূমিকম্পের পর পানামায় তিন শতাধিক পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার পর্যন্ত দুই শতাধিক পরাঘাতের তথ্য জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। ভূমিকম্পের পরবর্তী কম্পনগুলোর মাত্রা ও ঘনত্ব পর্যবেক্ষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানামা সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থ বরাদ্দের সুযোগ তৈরি হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা, অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং দুর্গম এলাকায় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।
মতামত দিন