প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে অ্যামচ্যাম
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব শৃঙ্খলা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগ-চালিত প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম)।
একইসাথে করের আওতা বাড়াতে এবং ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে অটোমেশন ও স্বচ্ছতার চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যামচ্যাম।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক বিবৃতিতে বাজেট নিয়ে সংগঠনটি এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
তবে সংগঠনটি মনে করে, এর ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট তৈরি হতে পারে, যা ঋণের খরচ বাড়িয়ে দেবে এবং বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর প্রশাসনের সংস্কার এবং রাজস্ব আদায়ে নিয়মনীতি কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মুখে সাড়ে ছয় শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং সাড়ে সাত শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট সামগ্রিকভাবে বাস্তবসম্মত।
বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশের মধ্যে রাখাকে বিচক্ষণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করলেও অ্যামচ্যাম সতর্ক করে বলে, ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের রাজস্ব নীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে সুসমন্বয় থাকা জরুরি বলে মনে করে তারা।
রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রাকে বেশ উচ্চাভিলাষী বলে অভিহিত করেছে অ্যামচ্যাম। এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যাপকভিত্তিক কর প্রশাসন সংস্কার ও কঠোর কমপ্লায়েন্স বা নিয়মনীতি কার্যকরের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কর নীতি এবং কর প্রশাসনকে আলাদা করার মতো রাজস্ব খাতের সংস্কারের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধিকে সাধুবাদ জানিয়েছে আমেরিকান চেম্বার। তবে এর সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সুশাসন এবং উন্নত সেবা প্রদানের ওপর নির্ভর করছে বলে তারা উল্লেখ করে।
অন্যদিকে ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হলেও, প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের মতো চ্যালেঞ্জ নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে সঠিক মূল্যায়ন এবং দক্ষতাভিত্তিক তদারকি জোরদারের দাবি জানায় সংগঠনটি।
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রেক্ষাপটে রপ্তানি সুবিধা এবং কিছু ক্ষেত্রে কর কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যামচ্যাম। তবে এই উত্তরণ সহজ করতে টেকসই নীতি ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে তারা। জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য শক্তি, সৌরবিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য দেওয়া প্রণোদনার প্রশংসা করলেও অভ্যন্তরীণ সম্পদ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
অ্যামচ্যাম মনে করে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে কার্যকর বাস্তবায়ন, নীতির ধারাবাহিকতা এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের জোরালো সহযোগিতার ওপর এর চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করবে।

মতামত দিন