আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা চলছে
দলীয় ঐক্য ও সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনে এই বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দলীয় সুত্র বলছে সাধারণত জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ধরনের বিশেষ বর্ধিত সভা হয়। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত আগস্টেও এ সভা হয়েছে। তবে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে এর আগে বিশেষ বর্ধিত সভার নজির পাওয়া যায় না। অল্প সময়ের ব্যবধানে সারা দেশের নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভার মূল লক্ষ্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেয়ার কারণে দলের ভেতর যে দ্বন্দ্ব-বিভেদ তৈরি হয়েছে, তা কমানো।
সভায় সভাপতিত্ব করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সভায় দলীয় প্রধান নির্দেশনামুলক বক্তৃতা করার কথা রয়েছে । মূল বার্তা থাকবে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিতে হয়েছে কৌশলের অংশ হিসেবে। নির্বাচন শেষ, এখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এ সভায় যোগ দিতে ইতিমধ্যেই গণভবনে প্রবেশ করেছেন জেলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্যরা। সকাল ৮টা থেকে সারা দেশ থেকে আসা নেতারা গণভবনের সামনে জড়ো হন। সাড়ে আট থেকেই এক এক করে নেতারা গণভবনে প্রবেশ শুরু করেন।
দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশেষ বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, জেলা/মহানগর ও উপজেলা/থানা/পৌর (জেলা সদরে অবস্থিত পৌরসভা) আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা, জাতীয় সংসদের দলীয় ও স্বতন্ত্র সদস্য, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের দলীয় চেয়ারম্যানরা, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার দলীয় মেয়ররা এবং সহযোগী সংগঠনসমূহের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত থাকবেন।
গতকাল (শুক্রবার) আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা প্রসঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গন্মাধ্যমকে বলেন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। কৌশলগত কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন করেছে। যে নির্বাচনে ৬২ জন নির্বাচিত হয়েছেন। তারাও কিন্তু আওয়ামী লীগের।
নির্বাচনে নিজেদের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি, মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব, সংঘাতের মতো দুঃখজনক ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয়ের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলে সুদৃঢ় ঐক্য দরকার। সবার মধ্যে ঐক্যবদ্ধ আবহ তৈরির জন্য এই বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন, বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন সবকিছু ভুলে গিয়ে উপজেলা, সিটি ও পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোযোগ দিতে হবে। সবার মধ্যে ঐক্যের আবহ তৈরির জন্য বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশেষ বর্ধিত সভা উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগরের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে