অপ্রতিরোধ্য লিওনেল মেসি: ৩৯ বছর বয়সেও মাঠের নিয়ন্ত্রক
বিশ্বমঞ্চে শেষ বাধা পেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা, আর এই সময়েও একটি কৌশলগত সত্য একইরকম অটুট রয়ে গেছে—মাঠের সব পথ যেন গিয়ে মেশে লিওনেল মেসির কাছেই। ৩৯ বছর বয়সেও আধুনিক ফুটবলের প্রচলিত যুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলেছেন এই কিংবদন্তি অধিনায়ক। মাঠের মাঝখান থেকে দলের খেলা নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি, আর প্রয়োজনের মুহূর্তে হয়ে উঠছেন চূড়ান্ত পার্থক্য গড়ে দেওয়ার কারিগর।
দর্শকদের অনেকেই লক্ষ করেন, মেসি মাঠে তাঁর সময়ের প্রায় ৬৪ শতাংশই কাটান হেঁটে হেঁটে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা—বিশ্ব ফুটবলে আর কোনো খেলোয়াড় তাঁর মুভমেন্টকে এতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারেন না। প্রতিপক্ষের অর্ধে ধৈর্য ধরে সময় নেন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড, তারপর হঠাৎই বিস্ফোরক গতিতে ছুটে গিয়ে ডিফেন্ডারদের সর্বোচ্চ ক্ষতি করে বসেন।
টুর্নামেন্টের অন্তর্নিহিত পরিসংখ্যানও তুলে ধরছে তাঁর অতুলনীয় প্রভাবের কথা। নকআউট পর্বে ওঠা খেলোয়াড়দের মধ্যে দলের সুযোগ তৈরিতে মেসির অবদানই সবচেয়ে বেশি—আর্জেন্টিনার মোট সুযোগের প্রায় ৩৩ শতাংশই এসেছে তাঁর মাধ্যমে, যা রীতিমতো বিস্ময়কর। গোল করার হুমকি হিসেবেও তিনি দলের পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু—নিজ দেশের নন-পেনাল্টি শটের হিসাবে শুধু নরওয়ের আরলিং হলান্দই মেসির ২৯ শতাংশের চেয়ে বড় অংশের অধিকারী।
এছাড়া, আর্জেন্টিনার আক্রমণের নিরঙ্কুশ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছেন মেসি। ফাইনাল থার্ডে নিজ দেশের বলের স্পর্শের ভাগে মেসির ১৯ শতাংশের চেয়ে বেশি অংশ যে খেলোয়াড়ের দখলে, তিনি একমাত্র মরক্কোর আশরাফ হাকিমি।
কৌশলগতভাবে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাঁর তুরুপের তাসকে দিয়েছেন সম্পূর্ণ স্বাধীনতা—দুর্বলতা কাজে লাগাতে মাঠজুড়ে যেখানে খুশি ঘুরে বেড়ানোর অনুমতি। কখনো এই প্লেমেকার মাঝমাঠে নেমে আসেন প্রাথমিক বিল্ড-আপ নিয়ন্ত্রণ করতে, আবার কখনো বাঁ প্রান্তে সরে গিয়ে ফাঁকা জায়গায় অপেক্ষা করেন জমাট রক্ষণ ভেদ করার জন্য।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে এই পজিশনাল নমনীয়তার পূর্ণ প্রদর্শনী দেখা গিয়েছিল। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় ডান হাফ-স্পেসে অবস্থান নেওয়া মেসি খেলার শেষ দিকে জ্বলে ওঠেন, দুটি অসাধারণ অ্যাসিস্ট দিয়ে দলকে রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনের পথ দেখান। আজকের ফাইনালের আগে প্রতিপক্ষের সামনে আবারও সেই চেনা অথচ প্রায় অসম্ভব চ্যালেঞ্জ—নিজের নিয়মে খেলা এই জাদুকরকে থামানো।
মতামত দিন