Views Bangladesh Logo

রোহিঙ্গাদের সহায়তা কাটছাঁটে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে শিশুরা: জাতিসংঘ

জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছে যে, টেকসই তহবিল দ্রুত না এলে বিশ্বজুড়ে সাহায্য তহবিল সংকটে ক্ষতি হতে পারে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে থাকা শিশুদের জীবনে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানুয়ারিতে পর্যালোচনার জন্য বিদেশি সাহায্যে ৯০ দিনের স্থগিতাদেশ আরোপ করেন, যা মানবিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

নির্যাতিত ও রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ বাংলাদেশের নোংরা ত্রাণ শিবিরে বাস করে, যাদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে সামরিক অভিযানের পর প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে।

এএফপি জানিয়েছে, ধারাবাহিক সাহায্য কাটছাঁটে জনাকীর্ণ বসতিতে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের জীবনে তীব্র দুর্দশা দেখা দিয়েছে, যারা সাহায্যে নির্ভরশীল এবং ব্যাপক অপুষ্টিতে ভুগছে।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, ২০১৭ সালের পর থেকে ক্যাম্পগুলোতে থাকা শিশুরা সবচেয়ে খারাপ মাত্রার অপুষ্টির সম্মুখীন। ২০২৪ সালের একই মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসায় হাসপাতালে ভর্তির হার ২৭ শতাংশ বেড়েছে।

বিদেশি সাহায্য পর্যালোচনার পর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার (১০ মার্চ) ঘোষণা করেছেন, মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) ৮৩ শতাংশ কর্মসূচি বাতিল করছে ওয়াশিংটন।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস বলেন, ‘সাহায্য তহবিলের এই সংকট শিশুদের বেঁচে থাকার সংকটে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে’।

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে পাঁচ লাখেরও বেশি বেশি শিশু বাস করে। তাদের ১৫ শতাংশেরও বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে -- এটি জরুরি সীমা’।

রানা ফ্লাওয়ারস বলেন, ‘মানবিক সহায়তায় আরও হ্রাস পরিবারগুলোকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দেয়ার ঝুঁকিতে ফেলবে। দাতা সরকারগুলোর দেয়া সহায়তার পরিমাণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মূল্যবান অংশীদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই’।

‘ইউনিসেফ শিশুদের পাশে থাকা এবং সেবা দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে আমাদের সাহায্য প্রয়োজন। টেকসই তহবিলের নিশ্চয়তা ছাড়া আমাদের জীবন রক্ষাকারী মানবিক পরিষেবা ঝুঁকিতে রয়েছে। এবং এর মূল্য শিশুদের জীবনে দিতে হবে’- বলেন তিনি।

ফ্লাওয়ারস বলেন, ইউনিসেফ তীব্র তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় কর্মসূচিতে মার্কিন মানবিক ছাড় পেয়েছে। তবে এটি কার্যকরে প্রয়োজনীয় তহবিল ফুরিয়ে যাওয়ার পথে’।

‘বাংলাদেশে বাতিল করা মার্কিন অনুদান ২০২৪ সালে আমাদের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা ব্যয়ের প্রায় এক চতুর্থাংশের সমান’- বলেন তিনি।

ট্রাম্পের খরচ কমানো কর্মসূচির প্রধান প্রযুক্তিবিদ ইলন মাস্ক গত সপ্তাহে তার মালিকানাধীন এক্সে জোর দিয়ে বলেন, ‘বিদেশি সাহায্য তহবিলের বিধি পরীক্ষা করতে সংক্ষিপ্ত বিরতিতে কেউ মারা যায়নি’।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ