এআই দিয়ে লেখার অভিযোগ, তবুও কমনওয়েলথ ছোটগল্প পুরস্কার পেলেন জামির নাজির
ক্যারিবীয় অঞ্চলের লেখক জামির নাজির এআই দিয়ে গল্প লেখার অভিযোগের মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত তার গল্প ‘দ্য সার্পেন্ট ইন দ্য গ্রোভ’ কমনওয়েলথ শর্ট স্টোরি প্রাইজের জন্য মনোনীত হয়েছে।
মে মাসে গল্পটি ক্যারিবীয় অঞ্চলের সেরা গল্প নির্বাচিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ও ব্লুস্কাইয়ে অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে লেখা। বিতর্কের জেরে সাহিত্য সাময়িকী Granta বিজয়ী গল্পটি প্রকাশের চুক্তি থেকেও সরে দাঁড়ায়।
এরপর কমনওয়েলথ ফাউন্ডেশন লেখকের খসড়া, সময়-সংবলিত নথি (টাইমস্ট্যাম্পড ডকুমেন্ট) এবং লেখার নোট পর্যালোচনা করে। তদন্ত শেষে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাজমি ফারুক জানান, বিজয়ী গল্প লেখার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আঞ্চলিক বিজয়ী হিসেবে আগে ২ হাজার ৫০০ পাউন্ড পাওয়া জামির নাজির সামগ্রিক বিজয়ী হওয়ায় আরও ২ হাজার ৫০০ পাউন্ড পুরস্কার পাচ্ছেন।
বিচারক প্যানেলের প্রধান লুইস ডাউটি গল্পটিকে ‘মৌলিক, কাব্যিক ও হৃদয়স্পর্শী’ বলে অভিহিত করেন।
অভিযোগের জবাবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জামির নাজির জানান, গল্পটি লিখতে তিনি ছয় থেকে সাতটি খসড়া তৈরি করেছিলেন। তিনি মোবাইলে স্পিচ-টু-টেক্সট সফটওয়্যার ব্যবহার করতেন এবং প্রতিটি লাইন যত্নসহকারে সম্পাদনা করে পরবর্তী লাইনে যেতেন। তার ভাষায়, এই ধীর ও মনোযোগী লেখার প্রক্রিয়াই গল্পটিকে পরিশীলিত করেছে।
গল্পটির অনুপ্রেরণা সম্পর্কে তিনি বলেন, ত্রিনিদাদের একটি গ্রামে তার শৈশব কেটেছে। স্কুলে যাওয়ার পথে আখ শ্রমিকদের আড্ডা, হাসি-তামাশা ও গল্প শোনার অভিজ্ঞতাই এই গল্পের ভিত্তি।
বিতর্কের সময় অনেকে বিভিন্ন এআই শনাক্তকারী সফটওয়্যারে গল্পটি পরীক্ষা করে এটিকে এআই-লিখিত বলে দাবি করেন। তবে কমনওয়েলথ ফাউন্ডেশন জানায়, এসব সফটওয়্যারের ফল সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়। তাই তারা সফটওয়্যারের ফলাফলের পরিবর্তে লেখকের সৃজনশীল প্রক্রিয়া ও প্রামাণ্য নথির ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফাউন্ডেশনের মতে, শুধুমাত্র এআই শনাক্তকারী সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করলে সাহিত্য পুরস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ভিন্নধর্মী লেখার শৈলীর লেখকেরা অযথা সন্দেহের মুখে পড়তে পারেন।
মতামত দিন