ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের নতুন প্রধান আহমদ বাহিদি
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ বাহিদি। এই নিয়োগ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে, যা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হামলার শুরুতে ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে অনেকেই নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক আইআরজিসি প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের ১২ দিনের হামলায় নিহত হুসাইন সালামী রয়েছেন। এর আগে আইআরজিসির কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাশেম সুলেমানীও ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন।
বাহিদি কে
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই আইআরজিসিতে যুক্ত ছিলেন আহমদ বাহিদি। ১৯৮০-এর দশকে তিনি গোয়েন্দা ও সামরিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং ১৯৮৮–১৯৯৭ পর্যন্ত কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব দেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি আইআরজিসির উপপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। বাহিদি প্রকাশ্যেই ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন।
রাজনৈতিক ভূমিকা
বাহিদি কেবল সামরিক নেতা নন; তিনি রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আহমেদিনেজাদ সরকারের সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং পরে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিতর্ক ও নিষেধাজ্ঞা
বাহিদির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলার ঘটনায় ইন্টারপোল ‘রেড নোটিশ’ জারি করেছিল। এছাড়া ২০২২ সালে মাশা আমিনীর মৃত্যুকে ঘিরে বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ইরান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, অনেক শীর্ষ নেতা ও অভিজ্ঞ কমান্ডার নিহত হওয়ায় আইআরজিসিকে পুনর্গঠন করা বড় চ্যালেঞ্জ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচী জানিয়েছেন, কিছু সামরিক ইউনিট এখন স্বতন্ত্রভাবে কাজ করছে, ফলে সমন্বয় রাখা কঠিন। এই পরিস্থিতিতে বাহিদির প্রধান দায়িত্ব হবে আইআরজিসির বিকেন্দ্রীভূত কাঠামো একত্রিত করে যুদ্ধ পরিচালনা করা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা অনেকটাই নির্ভর করছে আইআরজিসির কার্যকারিতার ওপর।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে