বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতায় ভারতীয় পাওয়ার গ্রিডে আদানির নজর
রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানি। এর জেরে ভারতীয় পাওয়ার গ্রিডে দ্রুত যুক্ত হতে তোড়জোড় চালাচ্ছে ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।
ঝাড়খন্ডের এ প্ল্যান্ট থেকে ২০২৩ সালে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (BPDB) ও আদানি পাওয়ার ঝাড়খন্ড লিমিটেডের (APJL) সঙ্গে এ বিষয়ে একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা বাংলাদেশের।
সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আদানির কোম্পানিটির সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে চায়। চুক্তির শর্তাদি মূল্যায়ন এবং বিদ্যুতের দাম ন্যায়সঙ্গত কি না, তা নির্ধারণ করতে চুক্তি পর্যালোচনার কথা বলছে বাংলাদেশ।
তবে এরই মধ্যে জানা গেছে, গোড্ডা কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভারতের অভ্যন্তরে সরবরাহ করতে চাইছে আদানি পাওয়ার।
জানা গেছে, এরই মধ্যে ১৬০০ মেগাওয়াট প্ল্যান্টটি বিহারের লক্ষ্মীসরাইয়ের একটি সাবস্টেশনের মাধ্যমে ভারতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অনুমোদন পেয়েছে। তবে ভারতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হতে চাইলে কোম্পানিটিকে প্রথমে ১৩০ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন লাইন তৈরি করতে হবে, যা আদানি পাওয়ারের মতে যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ।
অন্যদিকে প্রযুক্তিগত অসুবিধার কারণে সেন্ট্রাল ট্রান্সমিশন ইউটিলিটি অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (সিটিইউআইএল) বাঙ্কায় একটি সাব-স্টেশনের মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে সংযোগ দিতে আদানি পাওয়ারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেয়ার কয়েকদিন পর ১০ আগস্ট গোড্ডা প্ল্যান্ট ভারতীয় গ্রিডে সংযোগের জন্য আবেদন করেছিল আদানি গ্রুপ। বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনার কথা উল্লেখ করে পেমেন্ট বকেয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। পরে আদানি পাওয়ার বাংলাদেশের কাছে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বকেয়ার কথা জানিয়েছিল।
এদিকে আদানি পাওয়ার ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানিয়েছিল- দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি হলে গোড্ডায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভারতের অভ্যন্তরে সরবরাহ করতে পালে বেশি লাভ হবে। তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ১২ আগস্ট ‘বিদ্যুতের আমদানি ও রপ্তানি (ক্রস বর্ডার)’ নির্দেশিকা সংশোধন করে। নির্দেশিকা সংশোধনের পর নতুন নিয়মে এখন ভারতেও শতভাগ বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে আদানি পাওয়ার।
এই অবস্থায় ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে তা নিয়ে ভাবছেন ভারতীয় রাজনৈতিক মহল। তারা মনে করেন, বাংলাদেশে আদানি বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল সেই বিতর্কে এবার ঘি ঢালতে পারে নতুন এই নির্দেশিকা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে