Views Bangladesh Logo

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা

যুক্তিতর্ক শুনানির আগে আসামি স্বপ্না অসুস্থ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। তবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের ঠিক আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এই হত্যা অন্যতম প্রধান আসামি স্বপ্না আক্তার।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ঢাকার মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিনের আদালতে তাকে হাজির করার ঠিক আগমুহূর্তে এই ঘটনা ঘটে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, স্বপ্না আক্তার আদালতের হাজতখানায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেখানে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় বেলা সাড়ে ১১টায় যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আসামির এই আকস্মিক অসুস্থতার কারণে আদালতের কার্যক্রম কিছুটা বিলম্বিত হয়।

মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে সকাল ৮টার দিকে আদালত চত্বরে এনে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে সোহেল রানাকে এজলাসে তোলা হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে স্বপ্নাকে আদালতে হাজির করা হয়।

গত দুই সপ্তাহে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম নজিরবিহীন দ্রুত গতিতে এগিয়েছে। গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামানের দাখিল করা চার্জশিটটি গ্রহণ করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক। এরপর গত সোমবার (১ জুন) আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ ফ্রেম) করেন। এর পরদিনই অর্থাৎ মঙ্গলবার (২ জুন) ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে সাক্ষ্য পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। গতকাল বুধবার নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে জবানবন্দি দেন দুই আসামি।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আট বছর বয়সী রামিসা তাদের ফ্ল্যাট থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না তাকে ফুসলিয়ে তাদের ঘরে নিয়ে যান। এর এক ঘণ্টা পর রামিসার মা তাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তিনি অভিযুক্ত দম্পতির ঘরের বাইরে রামিসার জুতো দেখতে পান।

বারবার দরজায় কড়া নেড়েও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় ঘরের মেঝেতে রামিসার মাথাবিহীন দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা এবং পরে একটি বড় বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে তাৎক্ষণিক আটক করে। তবে তার স্বামী সোহেল রানা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এই ঘটনায় ২০ মে নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ