Views Bangladesh Logo

মাগুরা থেকে স্ট্রেচারে ঢাকার আদালতে আসামি

চার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে মাগুরা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার রুহুল আমিন পলাশ। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে স্ট্রেচারে করে আদালতের এজলাসে তোলা হয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন রুহুল আমিন পলাশ। তার আইনজীবী মো. রমজান আলী (রিপন) জানান, শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিচারক তাকে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ফারমার্স ব্যাংকের জামালপুরের বকশীগঞ্জ শাখা থেকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে চার কোটি তিন লাখ ৪১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক সহিদুর রহমান সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা করেন।

মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়। তারা হলেন পদ্মা ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী, তার মেয়ে রিমি চিশতী, সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার ফখরুজ্জামান, সাবেক ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার রুহুল আমিন পলাশ ও কামরুজ্জামান।

তদন্ত শেষে এই পাঁচজনের পাশাপাশি ব্যাংকটির ওই শাখার প্রধান ও ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুদুর রহমান খানকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ৬ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক।

গত ১৫ জানুয়ারি আদালত অভিযোগপত্র আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতক থাকায় মাসুদুর রহমান, ফখরুজ্জামান, রুহুল আমিন পলাশ ও কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলার আরেক আসামি মাহবুবুল হক চিশতী কারাগারে রয়েছেন এবং রিমি চিশতী জামিনে আছেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে মঙ্গলবার সকালে মাগুরা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আসেন রুহুল আমিন পলাশ। তার সঙ্গে ছিলেন বাবা রেজাউল করিম ও স্ত্রী। পরে স্ট্রেচারে করে তাকে আদালতের এজলাসে নেওয়া হয়।

জামিন শুনানিতে আইনজীবী মো. রমজান আলী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে জুনিয়র কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করতেন। আমার মক্কেল কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি কোনো টাকা আত্মসাৎ বা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রহণ কিংবা ভোগ করেননি।

আইনজীবী আরও বলেন, রুহুল আমিন পলাশ নার্ভ বা স্নায়ুজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে সম্পূর্ণভাবে প্যারালাইজড। কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত অবশ হয়ে যাওয়ায় তিনি দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারেন না এবং সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী। অ্যাম্বুলেন্স ও স্ট্রেচারে করে আদালতে এসে তিনি জামিনের আবেদন করেছেন। অসুস্থতা ও মানবিক কারণে তার জামিন প্রাপ্য।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক বলেন, আসামি গুরুতর অসুস্থ এবং অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। তার চিকিৎসা চলছে, তা চালিয়ে যেতে হবে। পরবর্তীতে আবার আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

পরে দুপুরের পর অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালত ত্যাগ করেন রুহুল আমিন পলাশ।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ