সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাটে দেড় হাজারের বেশি বিলাসবহুল সামগ্রী
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজধানীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে দেড় হাজারের বেশি বিলাসবহুল ও গৃহস্থালি সামগ্রীর তালিকা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট দুটি খুলে দুই দিনব্যাপী এই ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
দুদকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গুলশান-২-এর নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের একটি ভবনের এ-৭ ও বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটে মোট ২৬৯ ধরনের ১ হাজার ৫৩৫টি সামগ্রী নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাটে প্রায় ১ হাজার ১৩৫টি এবং বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটে প্রায় ৪০০টি সামগ্রী পাওয়া যায়।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিপুল পরিমাণ পোশাক ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী। দুই ফ্ল্যাটে মোট ৫৩২টি টাই, ১৯৩টি স্যুট, পাঁচটি ওভারকোট, ৫৩টি প্যান্ট, ৯১টি শার্ট, ১৩টি পাঞ্জাবি এবং ১০০টি ব্যবহৃত সালোয়ার-কামিজ পাওয়া গেছে। একটি কালো স্যুটকেস থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ১০২টি টাই।
এ ছাড়া ফ্ল্যাট দুটিতে বিশ্বের বিভিন্ন বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের ঘড়ির বাক্স ও আনুষঙ্গিক সামগ্রীও পাওয়া গেছে। তালিকায় রোলেক্স, অডেমার পিগে, ভ্যাশেরন কনস্টান্টিন, জ্যাগার-লেকুলত্রে, ব্রেগে, পারমিজিয়ানি ফ্লুরিয়ের ও এলইউসি ব্র্যান্ডের একাধিক বাক্সের উল্লেখ রয়েছে। একটি রোলেক্স বাক্সে একটি অব্যবহৃত ঘড়িও পাওয়া গেছে। তবে অধিকাংশ বাক্সের সঙ্গে ঘড়ি পাওয়া যায়নি।
দুদক জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ক্রয়রসিদ, সিরিয়াল নম্বর ও অন্যান্য নথি যাচাই করে এসব সামগ্রীর প্রকৃত মূল্য এবং মালিকানা নিশ্চিত করা হবে। কেবল ঘড়ির বাক্স পাওয়া গেছে বলেই সংশ্লিষ্ট ঘড়ি সেখানে ছিল—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানো যাবে না।
এ ছাড়া দুই ফ্ল্যাটে মুক্তার মালা, ডিজাইনার জুতা ও পোশাক, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শপিং ব্যাগ, বড় আকারের টেলিভিশন, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ট্রেডমিল, সাউন্ড সিস্টেম, ইতালিয়ান আসবাব, ঝাড়বাতি, দেয়ালচিত্র, ভাস্কর্য, গলফ স্টিক এবং বিপুল পরিমাণ গৃহস্থালি সামগ্রীও পাওয়া গেছে।
রবিবার ও সোমবার দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে অনুসন্ধানী দলটি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই তালিকা তৈরি করে। এ সময় দুদকের কর্মকর্তা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রতিনিধি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ এবং ভবন কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন।
দুদক জানিয়েছে, এখনও এসব সামগ্রীর মোট বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। মূল্যায়ন শেষে সম্পদের মালিকানা, অর্থের উৎস এবং চলমান মামলার অভিযোগের সঙ্গে এসব সম্পদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, কোনো সম্পদ ইনভেন্টরিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই সেটি অবৈধ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই; এ বিষয়ে তদন্ত ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারক হবে।
উল্লেখ্য, আদালতের নির্দেশে এর আগে গুলশানের প্রায় ৭ হাজার ৫৭৯ বর্গফুট আয়তনের দুটি ফ্ল্যাট ক্রোক করা হয়। পাশাপাশি সাইফুজ্জামান চৌধুরীর দেশ-বিদেশের সম্পদ নিয়ে দুদকের একাধিক অনুসন্ধান ও মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলার অভিযোগ বর্তমানে বিচারাধীন।
মতামত দিন