Views Bangladesh Logo

আবু সাঈদ হত্যায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে জেল

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে মামলার বাকি ২৮ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. মনজুরুল বাশিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব। এছাড়া কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান ও লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকেও একই মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের আগে কড়া পুলিশি পাহারায় কারাগারে থাকা ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশ উপ-পরিদর্শক আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা ইমরান চৌধুরী আকাশ, সহকারী রেজিস্ট্রার রফিউল হাসান রাসেল এবং কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল। মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে যারা পলাতক রয়েছেন, তাদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন আবু সাঈদ। এই হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৬ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরবর্তীতে ওই বছরের ৬ আগস্ট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ