একজন মায়ের ছোট্ট অনুরোধেই ভারতীয় ভিসা সেন্টারে ‘খেলাঘর’
একজন মায়ের ছোট্ট অনুরোধ থেকেই ঢাকার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য তৈরি হয়েছে ‘খেলাঘর’। রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) শিশুদের জন্য আলাদা এই খেলার জায়গার উদ্বোধন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
ঢাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলেন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সেদিন ভিসার জন্য আবেদন করতে আসা এক মা তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। ভিসা আবেদন ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সময় সন্তানদের নিয়ে অপেক্ষা করতে গিয়ে অভিভাবকদের যে সমস্যায় পড়তে হয়, তা তুলে ধরে তিনি শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ খেলার জায়গা তৈরির অনুরোধ জানান।
সেই অনুরোধই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাস্তব রূপ পেয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই মায়ের পরামর্শে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য ‘খেলাঘর’ নামে একটি আলাদা কর্নার তৈরি করা হয়েছে। উদ্বোধনের সময় সেই মাকেও তাঁর সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। যে জায়গাটি তৈরির অনুরোধ তিনি করেছিলেন, নিজের সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে এসে সেটির উদ্বোধন করেন তিনি।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, একজন মায়ের সাধারণ একটি অনুরোধ কখনো কখনো তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। ভিসা আবেদন কেন্দ্রে হাইকমিশনারের প্রথম পরিদর্শনের সময় ওই মা শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ খেলার জায়গার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, বাবা-মায়েরা ভিসার আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাজ করার সময় শিশুরা যেন নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে থাকতে পারে।
হাইকমিশন জানায়, অল্প সময়ের মধ্যেই সেই অনুরোধ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ‘খেলাঘর’ শুধু শিশুদের জন্য একটি খেলার জায়গা নয়, বরং ভিসা আবেদন কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা আরও স্বস্তিদায়ক করার একটি উদ্যোগ। শিশুদের জন্য অপেক্ষার সময়টুকু আনন্দদায়ক ও নিরাপদ করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজন থেকে আসা ছোট ছোট পরামর্শও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, জনকেন্দ্রিক এমন উদ্যোগের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি দুই দেশের জনগণ—এমনটাই মনে করে হাইকমিশন।
মতামত দিন