নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও আটকা ৯৩৩
হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পর নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন ৯ শতাধিক কর্মী ও প্রকৌশলী। তাঁদের উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চীন ও ভারতের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এই উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে নেপাল।
নেপাল সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুই জেলা রসুয়া ও নুওয়াকোটের ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ৯৩৩ জন কর্মী ও প্রকৌশলী আটকা রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সুড়ঙ্গগুলোতে জমে থাকা কাদা ও পাথরের স্তূপ সরাতে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ, খননযন্ত্র ও সার্চলাইট ব্যবহার করছে নেপালের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বাসনেত বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় সুড়ঙ্গগুলো খুলে উদ্ধার অভিযান চালানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের পর বরফ, কাদা ও পাথরের ভয়াবহ ঢল নামে। এতে সোমবার পর্যন্ত নেপালে ৯০৩ জন এবং চীনের তিব্বত অংশে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। দুই দেশ মিলিয়ে এখনো প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
রোববার রাতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই বন্যাকে ‘নজিরবিহীন ও প্রলয়ঙ্করী প্রাকৃতিক বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দুর্গম ভূপ্রকৃতির মধ্যেও ২১ হাজারের বেশি সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধার অভিযানে কাজ করছেন।
অন্যদিকে চীন জানিয়েছে, তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতে ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। সেখানে ২ হাজার ১০০-এর বেশি উদ্ধারকারী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ত্রাণ তহবিলে ২২ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রেড ক্রস জানিয়েছে, দুর্যোগে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
উদ্ধারকর্মীরা সতর্ক করেছেন, হিমবাহ ধসের স্থানে তৈরি হওয়া কৃত্রিম গহ্বরটি বড় হয়ে শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ ১ লাখ ৭৪ হাজার বর্গমিটারে পৌঁছেছে। সেখানে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে। বাঁধ ভেঙে গেলে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে।
এদিকে দুর্যোগের পর নদী ও হিমবাহসংক্রান্ত তথ্য সময়মতো না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চীনের বিরুদ্ধে। নেপালের দুই কর্মকর্তা এ অভিযোগ করেন।
তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, তারা নেপালকে নিয়মিত আবহাওয়া ও পানিসম্পদসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় কাঠমান্ডুকে সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে দেশটি।
মতামত দিন