বিশ্বে ৮০ কোটি তরুণ কর্মসংস্থানহীন ভবিষ্যতের মুখোমুখি: ইউএনডিপি
আগামী ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শ্রমবাজারে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ প্রবেশ করবেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তাঁদের মধ্যে মাত্র ৪০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাকি ৮০ কোটি তরুণ কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর নীতি গ্রহণ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতিসংঘের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন ইউএনডিপির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর মতে, বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ তৈরি না হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও দারিদ্র্য বিমোচনের প্রচেষ্টা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে।
ডি ক্রু বলেন, অনেক উন্নয়নশীল দেশে জনসংখ্যার বড় অংশই তরুণ। ফলে আগামী দেড় দশকে বিপুলসংখ্যক মানুষ শিক্ষা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করবেন। কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে পূর্বাভাস রয়েছে, তা এই জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। তবে এ সংকট অনিবার্য নয়। সরকারের কার্যকর শ্রমনীতি, উপযুক্ত বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউএনডিপি দুটি নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ‘ইনভেস্টমেন্ট অ্যাক্সিলারেটর’ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি, কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এবং সম্ভাবনাময় প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারগুলোকে সহায়তা করা।
অন্যদিকে, ‘জবস ফর প্রসপারিটি ফ্যাসিলিটি’ উদ্যোগের মাধ্যমে যেসব খাতে বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করা এবং নিয়োগদাতাদের চাহিদার সঙ্গে তরুণদের দক্ষতার সমন্বয় ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংক এসব উদ্যোগে অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে। নেপাল, ইয়েমেন, হাইতি, লেবানন ও ঘানায় ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক চাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউএনডিপি প্রধান। সংস্থাটির ‘নো টাইম টু রিকভার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশগুলো বর্তমানে সরকারি রাজস্বের গড়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয় করছে ঋণের সুদ পরিশোধে। একই সঙ্গে জ্বালানির উচ্চমূল্য, সম্ভাব্য তীব্র এল নিনোর প্রভাব এবং ঋণ গ্রহণের বাড়তি ব্যয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এসব সংকটের সম্মিলিত প্রভাবে দারিদ্র্য বিমোচনের অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার কর্মসংস্থানের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সে প্রশ্নে ডি ক্রু বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির মধ্যেও পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং পর্যটনের মতো খাতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন সঠিক নীতি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম খাতগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানো। তাঁর মতে, মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
মতামত দিন