সিকিমে টানেলে ভূমিধস ও গ্যাস লিকের ঘটনায় নিহত ৮, আটকা আরও ১৮
ভারতের সিকিম রাজ্যে টানেল নির্মাণস্থলে ভূমিধসের পর গ্যাস লিকের ঘটনায় আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো ১৮ জনের বেশি শ্রমিক টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)।
সোমবার বিকেল ৩টা ৯ মিনিটে দক্ষিণ সিকিমের সামারডং টানেলে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি অংশের নির্মাণকাজ চলছিল।
সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, টানেলের ভেতরে এখনো ১৮ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারে। তবে আটকা পড়াদের সঠিক সংখ্যা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠনিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিধসের কারণে টানেলের ভেতরে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েন। এর মধ্যে সন্দেহজনক মিথেন গ্যাস লিকের কারণে উদ্ধার অভিযান আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। গ্যাসের উচ্চমাত্রার উপস্থিতির কারণে উদ্ধারকারীরা এখনো টানেলের যে অংশে শ্রমিকেরা আটকা পড়ে আছেন, সেখানে পৌঁছাতে পারেননি।
এনডিটিভি জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলে এনডিআরএফের পাশাপাশি রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), সিকিম পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়াও উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন রাখতে ওই এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
নামচি জেলার কালেক্টর অনুপা তামলিং জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই শিলিগুড়ি ও পাকিয়ং থেকে উদ্ধারকারী দল এবং এসডিআরএফকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, ‘বিকেল ৩টা ৯ মিনিটের দিকে ঘটনাটি ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও পুলিশ সদস্যরা সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ছাড়াই দুইবার টানেলের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তাদের ফিরে আসতে হয়।’
তামলিং জানান, প্রথমে টানেলে প্রবেশ করা এনডিআরএফের একটি দল ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বের করে আনে। পরে এনডিআরএফের দ্বিতীয় একটি দল টানেলে প্রবেশ করে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টানেলের ভেতরে মিথেন গ্যাসের মাত্রা এত বেশি যে উদ্ধারকারীরা আটকে পড়া শ্রমিকদের সম্ভাব্য অবস্থানে পৌঁছাতে পারছেন না। ভূমিধসের সঠিক কারণও এখনো জানা যায়নি।
জেলা কালেক্টর তামলিং বলেন, ‘বাইরে বেরিয়ে আসতে পারা শ্রমিকদের কাছ থেকে জানা গেছে, তারা টানেলের ভেতর থেকে বিস্ফোরণের মতো একটি প্রচণ্ড শব্দ শুনেছিলেন। এরপর তারা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে এখনো কিছু শ্রমিক ভেতরে আটকা রয়েছেন।’
তামলিং জানান, প্রশাসনের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো টানেলের ভেতরে আটকে থাকা সবাইকে নিরাপদে বের করে আনা।
সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দলের কয়েকজন সদস্য মিথেন গ্যাসের সংস্পর্শে এসে মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। পরে তাদেরকে নিরাপদে বের করে এনে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মতামত দিন