Views Bangladesh Logo

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৭৭ জন, অনাহারে ১৫ জন

ত ২৪ ঘন্টায় গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত কমপক্ষে ৭৭ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ বিভিন্ন হাসপাতালে আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন আগের হামলায় নিহত পাঁচজনও। আহত আরও ৩৭৬ জনকে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টির কারণে চার শিশুসহ কমপক্ষে মারা গেছেন আরও ১৫ জন।

এ নিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৫৯ হাজার ১০৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আরও এক লাখ ৪২ হাজার ৫১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানান, অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি অবরোধ ও খাদ্য সরবরাহে বাধার মুখে গাজায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০১ জন ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন, যাদের ৮০ জনই শিশু এবং ২১ জন প্রাপ্তবয়স্ক।

ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের তালিকায় নতুন পাঁচজন ত্রাণপ্রার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে নিহত ত্রাণপ্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে, গাজায় খাবার সংগ্রহের চেষ্টা করতে গিয়ে এ পর্যন্ত এক হাজার ৫৪ জন নিহত হয়েছেন। ২৭ মে থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে তাদেরকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের মধ্যে ৭৬৬ জন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ত্রাণকেন্দ্রগুলোর কাছে এবং ২৮৮ জন জাতিসংঘের কনভয় বা অন্য ত্রাণ সংস্থার কেন্দ্রগুলোর কাছে মারা যান বলেও জানায় জাতিসংঘ।

চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইসরায়েলি স্থল অভিযানে গাজাজুড়ে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৫১ জন ফিলিস্তিনি, যাদের ১৪ জন জিএইচএফের ত্রাণ কেন্দ্রগুলোতে খাবারের জন্য এসেছিলেন। উদ্ধার হওয়া বাকি ২৬ জনের মরদেহের মধ্যে ২১ জন নিহত হন সোমবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রাতভরের হামলায় আর পাঁচজন মারা যান আরও আগে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, অ্যাম্বুলেন্স এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে না পারায় এখনও অনেক আহত এবং নিহতের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে বা রাস্তায় আটকে আছে।

এদিকে জাতিসংঘ ছাড়াও মোট ২৮টি দেশ ‘সাহায্যের ফাঁদে ফেলে শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের অমানবিক হত্যার নিন্দা জানিয়েছে, যারা তাদের সবচেয়ে মৌলিক চাহিদা পূরণে পানি ও খাদ্য যোগাড়ের চেষ্টা করছে।

গাজাজুড়ে ২৩ লাখ ফিলিস্তিনির মাঝে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ার হুশিয়ারি দিয়ে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার দুর্ভোগ ‘নতুন গভীরতায় পৌঁছেছে। ইসরায়েলের যুদ্ধ এখনই বন্ধ করতে হবে’। এতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হল, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, সাইপ্রাস, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, গ্রীস, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্য। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সাহায্য সরবরাহে বাধার নিন্দা জানিয়ে সবচেয়ে কঠোর ভাষা প্রকাশ করেছে কয়েকটি ইসরায়েলের মিত্রসহ এই দেশগুলো।

জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গাজায় ফিলিস্তিনিরা খাদ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতে গিয়ে অনাহারে অথবা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে মারা যাচ্ছেন। ক্ষুধার কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক এই মৃত্যু ও দুর্ভোগ মানবিক সাহায্য সরবরাহ ও সামরিকীকরণে ইসরায়েলের হস্তক্ষেপের ফলাফল’।

ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের ত্রাণ ও শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি বিবৃতিতে আরও বলেন, গাজার ডাক্তার, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও ‘ক্ষুধা ও ক্লান্তিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন’।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ