থাইল্যান্ডের চিয়াং মাইয়ের পর্যটন পার্কে দুই সপ্তাহে ৭২টি বাঘের মৃত্যু
থাইল্যান্ডের উত্তরের চিয়াং মাই শহরের জনপ্রিয় পর্যটন পার্ক টাইগার কিংডম চিয়াং মাই-এর দুই শাখায় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৭২টি বাঘ মারা গেছে। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীরা বাঘের কাছাকাছি গিয়ে ছবি তোলা, জড়িয়ে ধরা এবং শিশু বাঘ কোলে নেওয়ার মতো কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন। তবে স্থানীয় পশুসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, মৃত বাঘের শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনায় প্রাণঘাতী ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। কীভাবে বাঘগুলো ‘কুকুরের’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নয়।
মৃত বাঘগুলোকে আগুনে পোড়ানো হয় এবং ছাই মাটিতে চাপা দেওয়া হয়। দুই শাখায় মোট ২৪০টিরও বেশি বাঘ বসবাস করছিল। জাতীয় পশুসম্পদ দপ্তরের পরিচালক সোমচুয়ান রাতানামুংক্লানন জানিয়েছেন, “যখন আমরা অসুস্থ বাঘদের দেখেছি, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। কুকুর বা বিড়ালের মতো বাঘের রোগ শনাক্ত করা সহজ নয়।”
প্রাথমিক পরীক্ষায় বাঘগুলোর শরীরে ফিলাইন পারভোভাইরাস এবং শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। কয়েকজন স্থানীয় কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বিষাক্ত কাঁচা মুরগির মাংস খাওয়ানোর ফলে বাঘগুলো মারা গেছে।
প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং অভিযোগ করেছে যে, থাইল্যান্ডে বিনোদনের জন্য আটকানো বাঘদের দুর্দশার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। পরিস্থিতির কারণে টাইগার কিংডম চিয়াং মাই-এর সকল কার্যক্রম দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে