Views Bangladesh Logo

চিনি-দুধ ছাড়া কফি কেন ভালো, জানুন ৭ কারণ

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

সকালের ঘুমঘুম চোখে এক কাপ কফি অনেকের কাছেই দিনের প্রথম স্বস্তি। তবে সেই কফিতে দুধ, চিনি কিংবা ক্রিম না দিয়ে শুধু কফি আর পানি—অর্থাৎ ব্ল্যাক কফি—খাওয়ার অভ্যাস সবার কাছে সহজ নয়। প্রথম চুমুকেই তেতো স্বাদ অনেককে ফিরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু এই তেতো স্বাদের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু সম্ভাব্য উপকার, যা কেবল শরীরকে সতেজ রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

ব্ল্যাক কফির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এতে বাড়তি চিনি, দুধ বা ক্রিম না থাকায় ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম। সাধারণ এক কাপ ব্ল্যাক কফিতে প্রায় দুই থেকে চার ক্যালোরি থাকতে পারে। ফলে যারা অতিরিক্ত চিনি বা ক্যালোরি কমাতে চান, তাদের জন্য এটি তুলনামূলকভাবে ভালো পছন্দ হতে পারে।

কফির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ কফির উপকারিতা শুধু ক্যাফেইন থেকে পাওয়া সতেজতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

লিভারের ক্ষেত্রেও কফি নিয়ে আশাব্যঞ্জক গবেষণা রয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে নিয়মিত কফি পানকারীদের মধ্যে লিভারের কিছু রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বেশি বেশি কফি খেলেই লিভার সুস্থ থাকবে। বরং পরিমিত কফি পানকে সম্ভাব্য একটি সহায়ক অভ্যাস হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কফির সঙ্গে গেঁটেবাতের ঝুঁকি কমারও একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে বিভিন্ন গবেষণায়। বিশেষ করে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকার সঙ্গে কফি পানের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে গেঁটেবাতের চিকিৎসা হিসেবে কফিকে কোনোভাবেই ওষুধের বিকল্প ভাবা উচিত নয়।

ব্যায়ামের আগে এক কাপ ব্ল্যাক কফিও অনেকের জন্য কার্যকর হতে পারে। কফির ক্যাফেইন সতর্কতা বাড়ানোর পাশাপাশি শারীরিক কর্মক্ষমতায় কিছুটা সহায়তা করতে পারে। তাই শরীরচর্চার আগে কফি পান করেন—এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়।

আরেকটি আলোচিত বিষয় হলো বিপাকক্রিয়া। ক্যাফেইন শরীরের বিপাকীয় হার সামান্য বাড়াতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এ কারণেই ওজন নিয়ন্ত্রণের আলোচনায় ব্ল্যাক কফির নাম আসে। তবে শুধু কফি পান করে ওজন কমানোর আশা বাস্তবসম্মত নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চার বিকল্প কোনো পানীয় হতে পারে না।

সবশেষে আছে কফির স্বাদের বিষয়টি। দুধ-চিনি ছাড়া কফি খেতে শুরু করলে প্রথমদিকে তেতো লাগতেই পারে। কিন্তু ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে গেলে কফির নিজস্ব ঘ্রাণ, স্বাদ ও ভিন্ন ভিন্ন রোস্টের বৈশিষ্ট্য আলাদা করে বোঝা সম্ভব হয়। হালকা রোস্ট বা তুলনামূলক মসৃণভাবে তৈরি কফি দিয়ে শুরু করলে এই অভ্যাস গড়ে তোলা সহজ হতে পারে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ব্ল্যাক কফি উপকারী হতে পারে মানেই যত বেশি, তত ভালো নয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই ব্যক্তিভেদে সহনীয় মাত্রা বিবেচনা করে কফি পান করাই ভালো।

অর্থাৎ, এক কাপ ব্ল্যাক কফি শুধু ঘুম কাটানোর পানীয় নয়। পরিমিত পরিমাণে এটি কম ক্যালোরির একটি পানীয় হিসেবে যেমন জায়গা করে নিতে পারে, তেমনি এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, শারীরিক কর্মক্ষমতা ও বিপাকক্রিয়ায় সম্ভাব্য প্রভাবও একে আলাদা করে তোলে। আর যে তেতো স্বাদ দিয়ে যাত্রা শুরু, সময়ের সঙ্গে সেটিই হয়তো হয়ে উঠতে পারে কফির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ