ইন্দোনেশিয়ায় ৭ বিমানবন্দর বন্ধ, ২ হাজার ৩০০ ফ্লাইটে বিঘ্ন
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ছাইয়ে আকাশ ঢেকে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় সাতটি বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ফ্লাইটের চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি যাত্রী। পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাময়িকভাবে অনলাইন ক্লাসও চালু করা হয়েছে।
দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, আনাক ক্রাকাতাউয়ের টানা ২৫ ঘণ্টার অগ্ন্যুৎপাত রোববার শেষ হয়েছে। এ সময় লাভার ফোয়ারা সৃষ্টি হয় এবং প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে সোমবারও আগ্নেয়গিরিটি সক্রিয় ছিল। এদিন মাঝারি মাত্রায় থেমে থেমে অগ্ন্যুৎপাত, কালো ছাই নির্গমন এবং স্থানীয়ভাবে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এয়ারনাভ ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, জাকার্তাসহ কয়েকটি শহরের আকাশসীমায় আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ কারণে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাতটি বিমানবন্দর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে দক্ষিণ সুমাত্রার পাগার আলাম শহরের আতুং বুংসু বিমানবন্দর সোমবার সকালে আবার চালু হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সংস্থা ইনজার্নি এয়ারপোর্টসের ব্যবস্থাপনায় থাকা চারটি বাণিজ্যিক বিমানবন্দর—জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাত্তা ও হালিম পেরদানাকুসুমা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পশ্চিম জাভার বান্দুংয়ের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা এবং লাম্পুংয়ের রাদিন ইন্তেন বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। এতে ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৭ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব বিমান চলাচলের বাইরেও পড়েছে। আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের সংস্পর্শ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় জাকার্তা, পশ্চিম জাভা, বানতেন ও লাম্পুংসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের সাময়িকভাবে বাড়ি থেকে অনলাইন ক্লাস করার অনুমতি দিয়েছে সরকার।
ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনে আনাক ক্রাকাতাউ থেকে আরও অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
জাভা ও সুমাত্রার মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত আগ্নেয় দ্বীপ আনাক ক্রাকাতাউ। নামটির অর্থ ‘ক্রাকাতাউয়ের সন্তান’। এটি ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের জন্য পরিচিত ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির উত্তরসূরি।
২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতাউয়ের অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্ট সুনামিতে সুমাত্রা ও জাভায় অন্তত ৪৩০ জন নিহত হন। গবেষকদের ধারণা, আগ্নেয়গিরির কার্যক্রমের ফলে সমুদ্রের নিচে ভূমিধস হয় এবং আনাক ক্রাকাতাউয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম ঢালের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এতে বিপুল পরিমাণ পানি সরে গিয়ে সুনামির সৃষ্টি হয়।
ইন্দোনেশিয়ায় ১২০টির বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ দেশটির অবস্থানের কারণে সেখানে প্রায়ই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে।
মতামত দিন