মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আরও ৬ জন কারাগারে
ঢাকার মিরপুরে বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচের কার্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ছয়জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, শাহ আলম, আতিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম ও শাকিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক মো. আতোয়ার রহমান তাদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মুহাম্মদ এমরান জামিনের আবেদন করেন। তবে তিনি আগামীকাল সোমবার জামিন শুনানি করতে চান। পরে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে সোমবার জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।
এর আগে শনিবার মো. সোহেল, মো. জুয়েল, মো. জিহাদ হাসান ও মো. রাব্বি নামে চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এ নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভাঙচুরের মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে কারাগারে পাঠানো হলো।
মিরপুরের ১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে তারা প্রায় ৫০ বছর ধরে দরিদ্র ও অসহায় মা ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে একদল লোক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা হাতুড়ি, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দেয়াল টপকে ঢোকে এবং সেখানে থাকা নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও মো. আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখে।
এরপর একটি খননযন্ত্র নিয়ে স্থাপনার ভেতরে ঢুকে পাকা ও সেমিপাকা কয়েকটি ভবন ভেঙে ফেলা হয়। এর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার একটি ভবন এবং ক্লিনিকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের ব্যবহৃত কক্ষও ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ভাঙচুরের সময় বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট করা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও পরীক্ষাগারের কক্ষের দরজা-জানালাও ভাঙচুর করা হয়। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, আল্ট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র, জেনারেটর, কম্পিউটার, মুদ্রণযন্ত্র, ফ্রিজ, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও স্টিলের আলমারি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, হামলাকারীরা নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে পুরো স্থাপনায় একটি সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে চলে যায়। ঘটনার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যালয় ও স্থাপনার ধ্বংসাবশেষের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে শাহ আলী থানা পুলিশ।
মতামত দিন