ইয়েমেনের বন্দরনগরীতে সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহত ৬
লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাবা নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটিকে লড়াই বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিযান চালিয়ে মোখাসহ ইয়েমেনের গোটা লোহিত সাগর উপকূল দখলে নিয়েছে হুথি বাহিনী। এতে সৌদি-সমর্থিত সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইয়েমেনের এই যুদ্ধ ২০২২ সাল থেকে মোটামুটি স্থবির থাকলেও জুলাইয়ে তা আবার সক্রিয় হয়।
সাবার প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বিমান হামলায় নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও এক নারীসহ ছয়জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় এক শিশু ও এক নারীসহ আরও আটজন আহত হয়েছেন।
এর আগে সোমবার যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স জানায়, হুথিদের বারবার হামলার শিকার সৌদি আরবকে তারা প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেবে। জি-৭ জোটভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও একই দিন ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলাকে “অগ্রহণযোগ্য ও ক্রমাগত” আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানান এবং হুথিদের অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।
কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী জি-৭ নেতাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা হুথিদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন অবিলম্বে সব সামরিক পদক্ষেপ এবং বেসামরিক জাহাজ চলাচলের ওপর হুমকি ও হামলা বন্ধ করে এবং সরল বিশ্বাসে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসে।’
এই বিবৃতির একদিন আগে আলিমির কার্যালয়ের একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে ইরান-সমর্থিত যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মার্কিন সহায়তা চান ইয়েমেন সরকারের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ওই সূত্র আরও জানায়, ট্রাম্প সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেননি; বরং এই ফোনালাপকে ইয়েমেনের সংকটাপন্ন সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা বাতিল করেন বলেও জানা গেছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মতামত দিন