Views Bangladesh Logo

মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৫৮ সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে

মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ও আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘর্ষ প্রকট আকার ধারণ করেছে। গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশ সীমান্তে চলছে মিয়ানমারের এই দুই পক্ষের সংঘর্ষ। যার যের ধরে আজ সকালে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে ৫৮ জন বিজিপি সদস্য।

সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এদিকে বাংলাদেশের সীমান্তে বাস করা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেশ কয়দিন ধরেই চলছে এই সংঘর্ষ। ভয়ঙ্কর গুলাগুলির শব্দে তারাও আতঙ্কিত। অনেকেই এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে বলেও জানান স্থানীয়রা। মিয়ানমারের দুই বাহিনীর ছোড়া গোলা বারুদ বাংলাদেশ সীমান্তে এসে পড়ছে বলেও জানান তারা।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাত থেকে এখন (সকালে) সীমান্তে মর্টারশেল-গুলিবর্ষণ থেমে নেই। এতে রাত থেকে দুই গ্রামের (কোনাপাড়া-পশ্চিম পাড়ার) প্রায় তিন হাজার মানুষ নিরাপদে অন্যত্রে আশ্রয়ে চলে গেছেন। এ ছাড়া মিয়ানমারের ছোড়া মর্টারশেলের কিছু অংশ ও গুলি এসে পড়েছে স্থানীয় দুই জনের বাড়িতে। তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’

গত ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি গোলাবারুদ বাংলাদেশে আসার খবর নিশ্চিত করেন এবং মিয়ানমারের আর্মি /বিজিবিকে সাথে সাথে এর প্রতিবাদ লিখে পাঠান বলেও জানিয়েছে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

মিয়ানমারে চলমান সংঘর্ষে আতঙ্কিত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করা রোহিঙ্গারাও। নিজেদের অনেক পরিবার পরিজন এখনো আরাকানে অবস্থান করায় ভয়ে দিন কাটছে তাদেরও। নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনার বিষয় নিয়েও চিন্তিত তারা।

মিয়ানমারের চলমান এই অস্থিরতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন থমকে গিয়েছে বলে জানান শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, গত সাত বছর ধরে কোনো রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে পারেনি সেখানে নতুন করে কোনো ধরনের দূর্যোগ যাতে না ঘটে সে দিকেও খেয়াল আছে বাংলাদেশের। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাতে কোনো ধরনের উৎসাহ কাজ না করে সেদিকে নজর দিতে আরআরআরসি- এর কর্মকর্তাদেরও সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন গত ৩০ জানুয়ারী এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার আর্মি/বিজিপি দুই বাহিনীর সংঘর্ষের জেরে গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৫৫৪ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গেলো শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সেখানে ২৩ রোহিঙ্গা নিহতের দাবীও করেছে সংস্থাটি। এছাড়াও তারা দাবী করেন বাস্তুচ্যুত হয়েছে অসংখ্য বেসামরিক মানুষ।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ