Views Bangladesh Logo

ভারতে বন্যায় ৫৬ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বৃষ্টি, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও পাহাড়ি ঢলে ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যে বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। উত্তর প্রদেশ, বিহার, সিকিম, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন এলাকায় প্লাবন, ভূমিধস ও জলাবদ্ধতায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে উত্তর প্রদেশে। গত কয়েক দিনের দুর্যোগে রাজ্যটিতে ৫৬ জনের মৃত্যু এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

উত্তর প্রদেশের ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যটিতে গড়ে ৬৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক গড় ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার। অর্থাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত প্রায় ৭৭৫ শতাংশ বেশি। বৃষ্টি, ঝড় ও জলাবদ্ধতায় এক হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১০৭টি প্রাণীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সীতাপুরে সবচেয়ে বেশি সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। লখিমপুর খেরি, বাহরাইচ ও বলরামপুরে পাঁচজন করে এবং অযোধ্যা ও গোরখপুরে চারজন করে মারা গেছেন।

উত্তর প্রদেশের পাশাপাশি বিহারেও গণ্ডক নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নেপালে ভারী বৃষ্টির কারণে গণ্ডকের প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে পশ্চিম চম্পারণের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভাল্মীকিনগর ব্যারাজ থেকে বিপুল পরিমাণ পানি ছাড়ায় সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সিকিমে বারবার ভূমিধস ও পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পশ্চিম সিকিমের রিম্বি ও সিংলিটাম এলাকা। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রিম্বিতে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩২টি বাড়ি এবং চারটি সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন রিম্বিকে নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য রাখার বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলেও সিকিম ও ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির কারণে তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকা অববাহিকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিচু এলাকাগুলোতে পানি ঢোকার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ওড়িশায় ভারী বৃষ্টিতে ১০ জেলার ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৪০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারি হিসাবে ৮০টি ব্লক, ৩২৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ১ হাজার ৭১টি গ্রাম এবং ৪৯টি ওয়ার্ডের মানুষ দুর্যোগের প্রভাবে পড়েছেন। ৭২১টি বাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার ৪৮০ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ছত্তিশগড়েও ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কোন্ডাগাঁওয়ে পানিতে ডুবে থাকা ধানখেতে মাছ ধরতে গিয়ে ৪০ বছর বয়সী এক কৃষক ডুবে মারা গেছেন। বন্যা ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে দান্তেওয়াড়া, বিজাপুর, কোন্ডাগাঁও, কাঁকড়, বস্তার, গারিয়াবন্দ, ধামতারি ও দুর্গ—এই আট জেলায় স্কুল বন্ধ রাখা হয় এবং সরকারি স্কুলের নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন রাজ্যে জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়, খাবার ও পানীয় জল সরবরাহের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কয়েকটি পাহাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ