Views Bangladesh Logo

ট্রাম্পের ‘নেক্সট টার্গেট’ ৫ দেশ

তদিন হুমকি দিয়ে আসছিলেন। অবশেষে ৩ জানুয়ারি হুমকির বাস্তবায়ন করেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলা করে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় মার্কিন সেনারা। পরে তাদের আদালতে তোলা হয়। মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিচার করার ঘোষণাও দিয়েছেন ট্রাম্প।

কিন্তু এতেই থেমে থাকছেন না ট্রাম্প। তার ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষার কোপ’ পড়তে পারে আরও পাঁচটি দেশের ওপর। গত কয়েক দিনে তিনি এসব দেশকে ‘সতর্কবার্তা’ ও ‘হুমকি’ দিয়েছেন।

গ্রিনল্যান্ড: পিটুফিক স্পেস বেস নামে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে গ্রিনল্যান্ডে। কিন্তু ট্রাম্প চান পুরো দ্বীপ দখল করতে। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। তিনি দাবি করেন, ওই অঞ্চলটি ‘রুশ ও চীনা জাহাজে ভরে গেছে’।

ডেনমার্কের অংশ ও বিশালাকৃতির এই আর্কটিক দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বে প্রায় দুই হাজার মাইল (৩২০০ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত। এটি বিরল খনিজে সমৃদ্ধ, যা স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ‘কল্পনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আর কোনো চাপ নয়। আর কোনো ইঙ্গিত নয়। সংযুক্তির কল্পনা নয়। আমরা আলোচনায় উন্মুক্ত। আমরা সংলাপে উন্মুক্ত। তবে এটি সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান জানিয়ে হতে হবে।’

কলম্বিয়া: ভেনেজুয়েলায় অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করেন। তিনি পেত্রোকে ‘নিজের দিকে খেয়াল’ রাখতেও বলেন। ভেনেজুয়েলার পশ্চিম প্রতিবেশী কলম্বিয়া উল্লেখযোগ্য তেল মজুদের পাশাপাশি সোনা, রুপা, পান্না, প্লাটিনাম ও কয়লার বড় উৎপাদক। এটি ওই অঞ্চলের মাদক ব্যবসার একটি প্রধান কেন্দ্র- বিশেষ করে কোকেনের ক্ষেত্রে।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র পেত্রোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অভিযোগ করে, তিনি কার্টেলগুলোকে ‘বাড়তে’ দিচ্ছেন।

রোববার ট্রাম্প বলেন, ‘কলম্বিয়া এক অসুস্থ মানুষের হাতে চলছে, যে কোকেন বানাতে ও তা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করে। সে খুব বেশি দিন এটা করতে পারবে না।’

কলম্বিয়াকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অভিযান চালাবে কি না- এ প্রশ্নে ট্রাম্পের জবাব ছিল, ‘আমার কাছে ভালোই শোনাচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে কলম্বিয়া মাদকবিরোধী যুদ্ধে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র, যা কার্টেল মোকাবিলায় প্রতি বছর শত শত মিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে।’

ইরান: ইরান বর্তমানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখোমুখি এবং ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, আরও বিক্ষোভকারী নিহত হলে দেশটির কর্তৃপক্ষকে ‘কঠোরভাবে আঘাত’ করা হবে। তিনি বলেন, আমরা খুব ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছি। যদি তারা অতীতের মতো মানুষ হত্যা শুরু করে, আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্র তাদের কঠোরভাবে আঘাত করবে।

মেক্সিকো: ২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার সময় ট্রাম্পের প্রচারণার মূল স্লোগান ছিল মেক্সিকো সীমান্তে ‘দেয়াল নির্মাণ’। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্টের অফিসে ফেরার প্রথম দিনেই তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ করার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।

তিনি প্রায়ই দাবি করেন, মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রে মাদক বা অবৈধ অভিবাসী প্রবাহ ঠেকাতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে না। তিনি বলেন, মেক্সিকো দিয়ে মাদক ‘উপচে পড়ছে’ এবং ‘আমাদের কিছু করতে হবে’। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সেখানকার কার্টেলগুলো ‘খুব শক্তিশালী’। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাম প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।

কিউবা: ফ্লোরিডার মাত্র ৯০ মাইল (১৪৫ কিলোমিটার) দক্ষিণে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্রটি ১৯৬০-এর দশকের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। এটি নিকোলাস মাদুরোর ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র।

রোববার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। কারণ কিউবা ‘পতনের মুখে’। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে না। দেখে মনে হচ্ছে এটা ভেঙে পড়ছে। আমি জানি না, তারা টিকে থাকবে কিনা, তবে এখন কিউবার কোনো আয় নেই। তারা সব আয় পেত ভেনেজুয়েলা থেকে, ভেনেজুয়েলার তেল থেকে।’

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (যিনি কিউবান অভিবাসীদের সন্তান) দীর্ঘদিন ধরে কিউবায় শাসন পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। শনিবার তিনি বলেন, ‘যদি আমি হাভানায় থাকতাম এবং সরকারের অংশ হতাম, আমি অন্তত কিছুটা উদ্বিগ্ন হতাম।’

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ