রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার
রাজধানী ঢাকার আলাদা আলাদা এলাকা থেকে এক নারীসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য সবকটি মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছেন লালবাগ এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া আইনজীবী আনোয়ার হোসেন, শাহবাগ থেকে উদ্ধার হওয়া তিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি এবং আদাবর থেকে উদ্ধার হওয়া এক নারীর খণ্ডবিখণ্ড দেহাবশেষ।
পুরান ঢাকার লালবাগ থানাধীন শহীদনগরের বউবাজার লেনের ৩ নম্বর সড়কের ১০/১ নম্বর বাড়ির দোতলার একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে সকাল ১০টার দিকে মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন নামে এক আইনজীবীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা স্ট্রোকজনিত কারণে দুই থেকে তিন দিন আগে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে প্রকৃত মৃত্যুর কারণ জানা যাবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পরই।
বাড়ির মালিক মনির হোসেন জানান, চলতি মাসেই চার হাজার টাকা ভাড়ায় আনোয়ারকে একটি কক্ষ ভাড়া দিয়েছিলেন তিনি। ওই কক্ষে একাই থাকতেন আনোয়ার।
আনোয়ারের কাছ থেকে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করেছে পুলিশ, যেখানে ঠিকানা হিসেবে '৩১২ জগন্নাথ সাহা রোড' উল্লেখ রয়েছে। তার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
নিহত আনোয়ার জজ কোর্টের একজন আইনজীবী ছিলেন। ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন অ্যানেক্স ভবনের প্রথম তলার ২১৪ নম্বর কক্ষে তার চেম্বার ছিল, তবে সেখানে নিয়মিত বসতেন না তিনি। লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামিল হোসেন জানান, আনোয়ার হোসেন জজ কোর্টের আইনজীবী ছিলেন এবং ওই বাসায় ব্যাচেলর হিসেবে থাকতেন। তার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া গেছে এবং তা যাচাই করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
এদিকে শাহবাগ থানা এলাকার পৃথক তিনটি ঘটনায় অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে জাতীয় ঈদগাহের মূল ফটক ও কদম ফোয়ারা মোড়ের ফুটপাত থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। এদের একজনের বয়স আনুমানিক ৬৫ এবং অপরজনের বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশের ভাষ্যমতে, তারা ভবঘুরে প্রকৃতির মানুষ ছিলেন।
পথচারীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তৌফিক হাসান এবং মরদেহ দুটি উদ্ধার করেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ দুটি ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়।
এছাড়া শনিবার দুপুরের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের অপেক্ষমাণ কক্ষের পাশ থেকে অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধের (৭০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনিও একজন ভবঘুরে ছিলেন।
ঢামেকের ওয়ার্ড মাস্টার আইয়ুব আলী অপেক্ষমাণ কক্ষের সামনে ওই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং পরে তাকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা সোয়া ৩টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি পরে মর্গে রাখা হয়।
অন্যদিকে শনিবার বিকেলে রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে এক নারীর খণ্ডবিখণ্ড দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। আদাবর ১০ নম্বরের হাক্কার মোড় এলাকার একটি খাল থেকে ওই নারীর বিচ্ছিন্ন মাথা, দুই হাত এবং পা কাটা অবস্থায় ধড় উদ্ধার করা হয়।
আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়, যা একটি ব্যাগে ভরা অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহত নারীর পরনে ছিল মেরুন রঙের টপ এবং জলপাই রঙের ট্রাউজার। টপের হাতাসহ কেটে ফেলা দুই হাত এবং বিচ্ছিন্ন মাথা একটি কালো ব্যাগে ভরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা খালে ফেলে দিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নারীর পা দুটি এখনও উদ্ধার করা যায়নি।
নিহত নারীর পরিচয়ও এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। কী কারণে এবং কার হাতে তিনি খুন হয়েছেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ওসি জাহিদুল ইসলাম আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে কাজ চলছে। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে সিআইডির একটি ফরেনসিক টিমও।
মতামত দিন