Views Bangladesh Logo

ইরান সংঘাতে ৪২ মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত, ব্যয় বেড়ে ২৯ বিলিয়ন ডলার

ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযান 'অপারেশন এপিক ফিউরি'তে এ পর্যন্ত মোট ৪২টি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে পুরো অভিযানের মোট আনুমানিক ব্যয় ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

গত ১৩ মে হালনাগাদ করা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম মেরামত ও প্রতিস্থাপনের পরিশোধিত হিসাবের কারণে পেন্টাগনের আর্থিক চাহিদা অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে গেছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সাথে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক অভিযান শুরু করে। অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র বিমান, নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সম্প্রতি পুনরায় হামলা শুরু হয়, যার ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির হয়ে উঠেছে বলে সিআরএস জানিয়েছে।

সামরিক বিবৃতি ও গোয়েন্দা হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া ৪২টি আকাশযানের মধ্যে চালকসহ যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার এবং মানববিহীন ড্রোন।

নথি অনুযায়ী যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ঘটে গত ২ মার্চ। সেদিন কুয়েতের আকাশসীমায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ‘এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল’ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়, তবে এর ক্রু সদস্যরা নিরাপদেই ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। এছাড়া ৫ এপ্রিল ইরানের অভ্যন্তরে অভিযান পরিচালনাকালে আরেকটি এফ-১৫ই বিমান ধ্বংস হয় এবং ১৯ মার্চ ইরানের স্থলবাহিনীর গুলিতে একটি অত্যাধুনিক ‘এফ-৩৫এ লাইটনিং-২’ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মার্কিন নেভাল ইনস্টিটিউটের (ইউএসএনআই) তথ্যমতে, ৩ এপ্রিল একটি উদ্ধার অভিযান চলাকালে শত্রুপক্ষের গোলার আঘাতে ‘এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২’ নামের একটি গ্রাউন্ড-অ্যাটাক বিমান বিধ্বস্ত ও ধ্বংস হয়। এর আগে ১২ মার্চ বন্ধুভাবাপন্ন আকাশসীমায় দুটি ‘কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার’ আকাশযান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, যার মধ্যে একটি ইরাকে বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন ক্রুর সবাই নিহত হন এবং দ্বিতীয় বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। এছাড়া, ১৪ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় রানওয়েতে থাকা আরও পাঁচটি কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার এবং অরক্ষিত অবস্থায় পার্ক করে রাখা একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ (আওয়াক্স) বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সামরিক সম্পদের এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন কংগ্রেসে বৈশ্বিক সামরিক সক্ষমতা ও শিল্প উৎপাদন নিয়ে গুরুতর তদারকি উদ্বেগ তৈরি করেছে। আইনপ্রণেতারা এখন এখন খতিয়ে দেখছেন যে, প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব দিচ্ছে কি না। বিশেষ করে ‘ই-৩ সেন্ট্রি’র মতো অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন কিন্তু পুরনো ও সীমিত সংখ্যক নজরদারি বিমানের ঘাটতি বিশ্বের অন্যান্য সামরিক অঞ্চলে মার্কিন সক্ষমতাকে বড় সংকটে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিআরএস তাদের প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর অন্যান্য দেশের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তার কারণে বিধ্বস্ত বিমানগুলো দ্রুত প্রতিস্থাপনে পেন্টাগনের সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ