Views Bangladesh Logo

ইরান যুদ্ধ: উপসাগরে ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ পরিস্থিতিতে অন্তত ৪০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

গত ৩১ মার্চ প্রকাশিত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ইউনাইটেড ন্যাশন্স ডেভেলপমেন্ট (ইউএনডিপি)-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে আরব দেশগুলোর সম্মিলিত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১২০ বিলিয়ন থেকে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব আবদুল্লাহ আল-দারদারি বলেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাত খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অঞ্চলে ‘তীব্র ও আকস্মিক অর্থনৈতিক ধাক্কা’ সৃষ্টি করেছে। তার ভাষায়, ‘মাত্র এক মাসেই লাখো মানুষ দারিদ্র্যের নিচে নেমে যেতে পারে, যা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বহু বছরের প্রক্রিয়া।’

ইউএনডিপির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই যুদ্ধের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে বেকারত্বের হার প্রায় ৪ শতাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে। এতে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে—যা ২০২৫ সালে সৃষ্ট মোট কর্মসংস্থানের চেয়েও বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-ভুক্ত দেশগুলো এবং লেভান্ত অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। এসব অঞ্চলের দেশগুলো তাদের জিডিপির ৫ শতাংশের বেশি হারাতে পারে।

লেভান্ত অঞ্চলে দারিদ্র্যের হার আরও ৫ শতাংশ বাড়তে পারে, ফলে অতিরিক্ত ২৮ থেকে ৩৩ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যেই ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, জর্ডান ও লেবাননের মতো দেশগুলোতে দারিদ্র্য পরিস্থিতি গুরুতর।

যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি পরিবহন করা হয়।

ফলে তেল ও গ্যাস রপ্তানিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো প্রায় পুরোপুরি এই রুটের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

এই সংকট মোকাবিলায় কিছু দেশ বিকল্প রপ্তানি পথ খুঁজছে। সৌদি আরব লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু পর্যন্ত বিস্তৃত পাইপলাইনের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে স্থলপথে জ্বালানি পরিবহনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আল-দারদারি সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য একটি বড় বার্তা— অর্থনৈতিক কাঠামো, জ্বালানি নির্ভরতা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ