আদ-দ্বীন: ইন্টার্নশিপ অব্যাহত রাখার অনুমতি চান ৩২ বিদেশি শিক্ষার্থী
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর জেরে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাওয়া আদ-দ্বীন হাসপাতালেই ইন্টার্নশিপ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন ৩২ বিদেশি শিক্ষার্থী।
আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের এই শিক্ষার্থীরা সোমবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে মহাপরিচালকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে আসেন।
স্মারকলিপিতে তারা জানান, আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ২০৯ জন এসেছেন ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর থেকে।
এতে উল্লেখ করা হয়, ‘আমাদের অনেকেই ইতিমধ্যে চিকিৎসাশিক্ষার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বছর সম্পন্ন করেছি। আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন ৩২ জন কাশ্মীরি শিক্ষার্থীর অবস্থা নিয়ে, যারা বর্তমানে এই হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করছেন।’
স্মারকলিপিতে বলা হয়, তারা একাডেমিক শিক্ষা সফলভাবে শেষ করেছেন এবং এখন নিবন্ধন ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের জন্য বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
তারা জানান, তাদের পরিকল্পনা হলো ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করে ভারতে ফিরে গিয়ে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা। কিন্তু সমস্যা হলো, ভারতে চিকিৎসা স্নাতকদের জন্য প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুযায়ী ইন্টার্নশিপ একই প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে হয়— যেখানে চিকিৎসা শিক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেখানেই। একটি প্রতিষ্ঠানে আংশিক এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে আংশিক ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন হলে তা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে স্বীকৃত না-ও হতে পারে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঈদের আগের দিন গত ২৭ মে সকালে মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ার্ডে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকায় বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ বলে চিহ্নিত করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় পরবর্তীতে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
মতামত দিন