গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৩ সাংবাদিক নিহত
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে তিন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। বুধবারের এই হামলায় আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকসহ মোট তিনজন প্রাণ হারান বলে জানিয়েছে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গাজায় একটি ড্রোন পরিচালনাকারী ‘সন্দেহভাজনদের’ লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এর ফলে ইসরাইলি বাহিনী ও হামাসের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ অনেকটাই কমে এসেছে। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাজা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আল-জাহরা এলাকায় চালানো ইসরাইলি বিমান হামলায় তিন সাংবাদিক নিহত হন। তাদের মরদেহ দেইর আল-বালাহ এলাকার আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত সাংবাদিকরা হলেন—মোহাম্মদ সালাহ কাশতা, আবদুল রউফ শাআত এবং আনাস ঘনেইম। এর মধ্যে আবদুল রউফ শাআত ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে এএফপির সঙ্গে কাজ করতেন। তবে হামলার সময় তিনি এএফপির কোনো দায়িত্ব পালন করছিলেন না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্য গাজা উপত্যকায় হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ড্রোন পরিচালনাকারী কয়েকজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়। সেনাদের জন্য ড্রোনটি হুমকি সৃষ্টি করছিল দাবি করে বলা হয়, সেই কারণেই ড্রোনটি পরিচালনাকারীদের লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে। হামলাটি নির্ধারিত সামরিক কমান্ড চেইনের অনুমোদন অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
এর আগে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, আল-জাহরা এলাকায় একটি ‘বেসামরিক যানবাহন’ লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা গেছে, মিশরীয় রিলিফ কমিটির ত্রাণ বিতরণের দৃশ্য ধারণের জন্য সাংবাদিকরা একটি ড্রোন ব্যবহার করছিলেন। সে সময় তাদের সঙ্গে থাকা যানবাহনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৪৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে