জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতার অভিযোগে ঢাবির তিন শিক্ষক বরখাস্ত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে সংগীত বিভাগের এক শিক্ষককেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিন শিক্ষক হলেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতার অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি তাঁদের দায়ী করে সুপারিশ দেওয়ার পর সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁদের বিরুদ্ধে এখন ট্রাইব্যুনালে পরবর্তী প্রক্রিয়া চলবে।
অন্যদিকে, নিয়োগের সময় নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করার অভিযোগে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমানকে (সায়েম রানা) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পরে সংগীত বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করলেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সংগীত বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি চাওয়া হয়েছিল।
এদিকে ছাত্রী হলের প্রবেশদ্বার বন্ধের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে রাত ১১টায় ছাত্রী হলের গেট বন্ধ হবে। এতদিন রাত ১০টায় গেট বন্ধ করা হতো। তবে এ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয় ছাত্রীদের আন্দোলনকারী প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’, ‘নারী হল সংস্কার আন্দোলন’ ও ‘অবরোধবাসিনী’। তাঁদের দাবি, শুধু এক ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে দীর্ঘদিনের ‘সান্ধ্য আইন’ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
মতামত দিন