কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত ২৭
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার রাতভর চালানো এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০০ জনেরও বেশী। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, এতে অন্তত ১১৩ জন আহত হয়েছেন। দেশটির স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস জানিয়েছে, রাশিয়ার চালানো এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল রাজধানী কিয়েভ।
এই হামলাকে ‘ভয়াবহ ও ব্যাপক’ বলে বর্ণনা করেছেন কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো। বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ‘কিয়েভ শহরের ২০টিরও বেশি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যার বেশিরভাগই আবাসিক ভবন। এছাড়া একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশন, একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, একটি হোটেল এবং বেশ কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, এই হামলায় ৭০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৫০০টি ড্রোন ব্যবহার করেছে রাশিয়া।
এই হামলায় কিয়েভের প্রতিটি জেলাতেই কম-বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডার্নিটস্কি জেলা। সেখানে একটি ৯ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবনের একাংশ ধসে পড়ায় অনেকেই ভেতরে আটকা পড়েন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরী ও তার পরিবারকে উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। এছাড়া হোলোসিভস্কি ও শেভচেনকিভস্কি জেলার আবাসিক ভবন ও হোটেলের ছাদে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, এবারের হামলায় অস্বাভাবিক মাত্রায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে মস্কো। একই সাথে তারা স্বীকার করেছে যে, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের ঘাটতির কারণে এবার ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার হার তুলনামূলক কম ছিল।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার উফা অঞ্চলের একটি বড় তেল শোধনাগার, পেনজা অঞ্চলের একটি সামরিক কমপ্লেক্স এবং মস্কো অঞ্চলের একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে সফল হামলা চালানোর পরপরই রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই পাল্টা আঘাত আসে।
তবে মস্কোর দাবি, তারা ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিমানবন্দর লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। এটি রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার প্রতিশোধ।
কিয়েভে এই বর্বর হামলার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। এটিকে একটি ‘মরণঘাতী প্রবণতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, রাশিয়ার সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সকে সহায়তাকারী পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে ইইউ শিগগিরই নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ২০২৬ সালে কিয়েভে চালানো রাশিয়ার সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ হামলা। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, দুই পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডের ভিতরে দূরপাল্লার হামলা জোরদার করায় যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল ও তীব্র হয়ে উঠছে।
সূত্র: এবিসি নিউজ, টাইমস অব ইন্ডিয়া
মতামত দিন