Views Bangladesh Logo

যুক্তরাষ্ট্রের তিন রাজ্যে টর্নেডোর তাণ্ডবে নিহত ২৭

যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গরাজ্যে ঘূর্ণিঝড় ও টর্নেডোর তাণ্ডবে কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অনেকে। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কেন্টাকিতে ১৮ জন, মিসৌরিতে ৭ জন এবং ভার্জিনিয়াতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (১৭ মে) ভোরে কেন্টাকি রাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বের লরেল কাউন্টিতে টর্নেডো আঘাত হানে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশেয়ার জানান, টর্নেডোতে অঙ্গরাজ্যটির ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মিসৌরিতে সাতজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচ জন সেন্ট লুইস শহরের বাসিন্দা।

লরেল কাউন্টির পুলিশ কর্মকর্তা জন রুট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও জীবিতদের খোঁজ চলছে।’

এদিকে মিসৌরিতে টর্নেডোর তাণ্ডবে ৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫ জন সেন্ট লুইস শহরের বাসিন্দা।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ৫,০০০ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ছাদ উড়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়েছে।

সেন্ট লুইসের মেয়র কারা স্পেন্সার বলেন, ‘এই প্রাণহানি ও ধ্বংস সত্যিই ভয়াবহ। আমাদের সামনে অনেক কাজ পড়ে আছে। তবে এখন সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে- জীবন বাঁচানো, মানুষকে নিরাপদ রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের শোক প্রকাশের সুযোগ দেয়া।’

তিনি আরও জানান, কমপক্ষে ৩৮ জন আহত হয়েছেন, যারা মূলত ধসে পড়া ভবন ও উপড়ে পড়া গাছপালার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, শনিবার দুপুর আড়াইটার পর মিসৌরির সেন্ট লুইসের পশ্চিমে ফরেস্ট পার্কের কাছে টর্নেডো আঘাত হানে। এই এলাকায় সেন্ট লুইস চিড়িয়াখানা ও ১৯০৪ সালের অলিম্পিক ভেন্যু অবস্থিত।

সেন্ট লুইস দমকল বিভাগ জানায়, টর্নেডো আঘাতে সেন্টেনিয়াল খ্রিস্টান গির্জার একটি অংশ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে একজন মারা গেছেন।

জানা গেছে, শনিবার বিকেল পর্যন্ত কেন্টাকি ও মিসৌরিতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বাড়ি-ঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। সেন্ট লুইসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঘরে ঘরে তল্লাশি চালাচ্ছে দমকল বাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দুর্ঘটনা ও লুটপাট রোধে রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, পার্শ্ববর্তী ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেও টর্নেডো আঘাত হেনেছে। এর প্রভাব আটলান্টিক উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত। তারা সতর্ক করে বলেছে, সাপ্তাহিক ছুটির সময় টেক্সাসের উত্তরাঞ্চলে আরও টর্নেডো আঘাত হানতে পারে।

এই টর্নেডোগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ‘টর্নেডো অ্যালি’ নামে পরিচিত এলাকায় আঘাত হানে, যেখানে সবচেয়ে বেশি টর্নেডো হয়। সাধারণত মে ও জুন মাসে টর্নেডোর তীব্রতা বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, ২০০০ সাল থেকে কেন্টাকি রাজ্যে মে মাসে গড়ে ৫টি এবং মিসৌরি রাজ্যে গড়ে ১৬টি টর্নেডো রেকর্ড করা হয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ